টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সঙ্কটে বিপাকে জীবননগরের কৃষক

জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলা জুড়েই এখন ধান কাটার মৌসুম চলছে। তবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকেরা সমস্যায় পড়েছেন। সাধারণত ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দেয়া হয়। কৃষকদের নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

আতিয়ার রহমান, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Jibannagar
টানা বৃষ্টিতে মাঠে ভিজে থাকা কাটা ধান
টানা বৃষ্টিতে মাঠে ভিজে থাকা কাটা ধান |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা-এ চলতি বোরো মৌসুমে পাকা ধান কাটতে না পেরে ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। টানা বৈরী আবহাওয়া, মাঝেমধ্যে ঝড়-বৃষ্টি এবং শ্রমিক সঙ্কটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। ফলে মাঠে কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় তুলতে না পারার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে মোট সাত হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। বেশির ভাগ জমির ধান ইতোমধ্যে পেকে গেলেও গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাত কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ঝড়ো হাওয়ায় অনেক ক্ষেতের পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। নিচু জমিতে কেটে রাখা ধান পানিতে তলিয়ে আছে। অনেক কৃষক ধান কেটে মাঠেই গাদা করে রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

মাধবখালী গ্রামের কৃষক রাজেদুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে অনেক কৃষক ধান কেটে রেখেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সেই ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। দিনে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ধান কাটতে ভয় পাচ্ছি।

গোপালনগর গ্রামের কৃষক মজনুর রহমান বলেন, মাঠের বেশির ভাগ ধান কাটার উপযোগী হয়ে গেছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাটতে পারছি না। বেশি পেকে গেলে ধান ঝরে পড়ে, এতে ফলন কমে যায়। প্রতিদিন বৃষ্টির আশঙ্কায় কৃষকদের উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। সকাল ৮ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজের জন্য ৪০০ টাকা হাজিরা দিলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজনগর গ্রামের কৃষক আবু তাহের জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শ্রমিক সঙ্কটও বেড়েছে। অনেক কৃষক কষ্ট করে নুয়ে পড়া ধান কেটে-মাড়াই করলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, বৃষ্টিতে ভিজে ধানের রঙ নষ্ট হয়েছে-এই অজুহাতে ব্যবসায়ীরা কম দামে ধান কিনতে চাইছেন।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলা জুড়েই এখন ধান কাটার মৌসুম চলছে। তবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকেরা সমস্যায় পড়েছেন। সাধারণত ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দেয়া হয়। কৃষকদের নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে নিচু জমির ধান দীর্ঘসময় পানিতে থাকলে ফলন ও মান-দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।