সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহিদ রফিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে জকসু ভিপি মো: রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কট সমাধান না করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকে কোনো প্রকার ভ্রূক্ষেপ না করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাতে দলীয়করণের ঘৃণ্য পায়তারা শুরু করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধি করা মূলত দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন খাতকে দলীয়করণ করার একটি কৌশল। অবিলম্বে এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।’
জকসু এজিএস মাসুদ রানা বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধি মূলত কোটা পদ্ধতির নব্যরূপ। এ রকম প্রতারণামূলক পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটিয়ে পূর্বের সরকারকে তীব্র জনরোষের মুখে দেশ ছাড়তে হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই পদ্ধতি বাতিল না করলে বর্তমান সরকারকেও শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।’
জকসু শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মো: ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘সরকারের চারপাশে কুচক্রীমহল বসে আছে। যারা একের পর এক বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। চব্বিশের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এসে শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির মতো এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমাদের প্রত্যাশা, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাতিল করবে।’
জাতীয় ছাত্রশক্তি, জবি শাখার সভাপতি মো: শাহীন মিয়া বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা সরকারকে সতর্ক করে দিতে চাই, একের পর এক এমন শিক্ষার্থীবিরোধী, গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রণয়ন বন্ধ না করলে পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
এ সময় নেতৃবৃন্দ ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হবে পয়সায়’, ‘ভাইবা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরির ১১-২০তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য নতুন পরীক্ষার মানবণ্টনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, ১১-১২তম গ্রেডে ১০০ নম্বরের লিখিত ও ৫০ নম্বরের মৌখিক, ১৩-১৬ গ্রেডে ৬০ নম্বরের লিখিত ও ৪০ নম্বরের মৌখিক এবং ১৭-২০ গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় ২৫ নম্বর করে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।


