চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গৃহবধূ আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় কারাগারে যাওয়া দুই শিশুর দাদি মোসা: মনোয়ারা বেগমকে জামিন দিয়েছেন আদালত। এর ফলে আড়াই বছরের আরাফ ও সাত মাস বয়সী জাইফা ইসলামকে আর কারাগারে থাকতে হবে না।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হান্নানের আদালত শুনানি শেষে মনোয়ারা বেগমের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে ১ জুলাই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত মুক্তার স্বামী আরিফুল ইসলাম জিফাত (২৯), শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম ও ননদ মোসা: নাদিয়া আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই সময় শিশু দুটিকেও অভিভাবকদের সাথে কারাগারে যেতে হয়েছিল।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফোরকান মোহাম্মদ জানান, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম ও ননদ নাদিয়া আক্তারের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। ভিকটিমের দুই নাবালক সন্তানকে দেখভালের জন্য অন্য কোনো অভিভাবক না থাকায় শিশু দুটিকে কারাগারে থাকতে হয় এবং দাদির সাথে আদালতে হাজির করা হয়।
তিনি বলেন, মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত মনোয়ারা বেগমের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে নাদিয়া আক্তারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। ফলে দুই শিশু এখন তাদের দাদির হেফাজতেই থাকতে পারবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি চন্দনাইশ পৌরসভার হাজিপাড়া এলাকায় নিজ শয়নকক্ষে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মো. মনির আহমদ বাদী হয়ে চন্দনাইশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে গত ৬ মে আদালতে জমা দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, মুক্তাকে সরাসরি হত্যা করা হয়নি। তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ধারাবাহিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং যৌতুকের দাবির কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
তদন্তে আরো উঠে আসে, ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল আরিফুল ইসলাম জিফাতের সাথে মুক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ব্যবসার জন্য অতিরিক্ত পাঁচ লাখ টাকা এবং ঈদ উপলক্ষে দামি উপহার দাবি করে মুক্তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার তিন দিন আগে মুক্তা তার বাবাকে ফোন করে যৌতুকের টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকির কথা জানিয়েছিলেন। পরে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।



