শিবচরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা জামায়াতের

‘চলতি মাসের মধ্যেই দেশের সাতটি সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য উপজেলা ও পৌরসভায় জামায়াত সমর্থিত মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে।’

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Shibchar
শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছেন জেলা আমির অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান
শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছেন জেলা আমির অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে সারোয়ার হোসাইন মৃধা ও শিবচর পৌরসভার মেয়র পদে জাহাঙ্গীর হোসেন খানকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান।

রোববার (৩১ মে) রাতে শিবচর পৌর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘চলতি মাসের মধ্যেই দেশের সাতটি সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য উপজেলা ও পৌরসভায় জামায়াত সমর্থিত মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে এবং সংসদেও ভূমিকা রাখছে। একই সাথে জামায়াত নিজেদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক শক্তি বাড়াতে এককভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে প্রতিটি স্থানে নিজেদের প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে আপনাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থী বাছাই করবো। সেক্ষেত্রে আমরা কোনো কার্পণ্য করবো না। আপনারা দেখে-শুনে আপনাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েমে সহায়তা করবেন। আপনারা এখন থেকে আমাদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইবেন।’

এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘নির্বাচন পেছানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং তা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেয়ার পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

একইসাথে উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন চলতি বছরের মধ্যেই আয়োজন করতে হবে। এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। দেশের জনগণ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবে।’