সিলেটে এক দশকের বেশি সময় আগে তাবলিগ জামাতের স্থানীয় আমির ইব্রাহিম আবু খলিল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তার স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার ফাতিহা মাশকুরার করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন। এর ফলে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল হয়ে যায়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৬ জুন সিলেটের একটি আদালত ফাতিহা মাশকুরাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টও সেই দণ্ড বহাল রাখেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তিনি আপিল বিভাগে আপিল করেন।
আদালতে আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। তার সাথে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুদ্দিন খালেদ।
রায় ঘোষণার পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায় বাতিল করে আপিল বিভাগ ফাতিহা মাশকুরাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে তিনি কারা হেফাজতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই রায়ের পর তার মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।
তিনি আরো বলেন, মামলায় ফাতিহার বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়া অন্য কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণ ছিল না। স্বীকারোক্তি গ্রহণের আগে আসামিকে চিন্তাভাবনার জন্য যে সময় দেয়া হয়েছিল, সে সময় একজন নারী পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি ছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ফলে স্বীকারোক্তিটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ কারণে ওই জবানবন্দিকে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
উল্লেখ্য, ইব্রাহিম আবু খলিল তাবলিগ জামাতের সিলেট নগরের ধোপাদিঘিরপাড় আঞ্চলিক শাখার মুরব্বি (আমির) ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৮ মে নগরের সওদাগরটুলায় নিজ বাসার শোবার ঘর থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় বাসা থেকে তার প্রথম স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে আটক করা হয়।
পরদিন আদালতে ফাতিহা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ২০১৫ সালের ১৯ মে কোতোয়ালি থানায় পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ তাকে খালাস প্রদান করলেন।


