বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রাওঘা গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত জহিরুল মৃধা, মাহতাব গাজী ও সোনিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বেলা ১১টার দিকে।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের জহিরুল মৃধার সঙ্গে তার ছোট চাচা খলিল মৃধার ৩৩ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এ ঘটনায় জহিরুল মৃধা গত ৩১ মে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। বুধবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য শালিস বৈঠকে বসেন। তবে কোনো সমাধান না হওয়ায় শালিস বৈঠক ভেঙে যায়। পরে জহিরুল মৃধা ও খলিল মৃধার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ১১ জন আহত হয়।
আহত মো: জহিরুল মৃধা, মাহতাব গাজী, শাহ আলম শরীফ, সোনিয়া বেগম, রাকিব, ঝন্টু, আরিফ ও বেল্লালকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক গুরুতর আহত জহিরুল মৃধা, মাহতাব গাজী ও সোনিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। অপর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
জহিরুল মৃধার অভিযোগ—খলিল মৃধা, তার ছেলে আরিফ মৃধা, রাকিব মৃধা, রায়হান মৃধা, বেল্লাল মৃধা ও ঝন্টু মৃধা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জহিরুল মৃধা, মাহতাব গাজী ও শাহ আলম শরীফকে গুরুতর জখম করেছে।
জহিরুল মৃধা অভিযোগ করে বলেন, ‘শালিস বৈঠক শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে খলিল মৃধার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার লোকজনকে আটকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। এতে ছয়জন আহত হয়েছে। দুজনের অবস্থা খুবই খারাপ। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘খলিল মৃধা এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে সোনিয়া নামের একজনের মাথা ফাটিয়ে তাকে আহত করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।’
খলিল মৃধা বলেন, ‘জহিরুল মৃধার সাথে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আমার পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছে।’
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: লুনা বিনতে হক বলেন, আহত জহিরুল মৃধা ও মাহতাব গাজীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি আবু শাহাদাৎ মো: হাচনাইন পারভেজ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



