সারাদেশের মতো পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতেও এলপিজি গ্যাস সঙ্কটের তীব্র প্রভাব পড়েছে। গ্যাস সঙ্কটের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে শহরের একমাত্র গণপরিবহন ব্যবস্থা গ্যাসচালিত সিএনজি অটোরিকশা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা।
শহরে অটোরিকশার সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক যাত্রী গাড়ি পাচ্ছেন না। বিশেষ করে স্কুল ফেরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। অনেক ক্ষেত্রে অটোরিকশা মিললেও স্বল্প দূরত্বের যাত্রী তুলতে অনীহা দেখাচ্ছেন চালকরা। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
এলপিজি গ্যাস সংকটের কারণে শহরের তিনটি গ্যাস পাম্পই সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। পাম্পগুলোতে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সিএনজি অটোরিকশাগুলোকে গ্যাসের আশায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অধিকাংশ চালক গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে সড়কে যান চলাচল আরো সীমিত হয়ে পড়েছে এবং শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক অটোরিকশা বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বর্তমানে যে অল্পসংখ্যক গাড়ি চলাচল করছে, সেগুলোও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিএনজি চালক রফিক ও দিদার জানান, গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে দিনের অর্ধেক সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আয় কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। গ্যাস সংকটের সুযোগে কিছু তেলচালিত অটোরিকশার ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
এদিকে ভেদভেদী মা গ্যাস পাম্পের ম্যানেজার বাবলা দাশ জানান, ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ এলপিজি গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সঙ্কট আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্টরা।



