চৌগাছায় জামায়াতের সংসদ সদস্য

নির্বাচন পরবর্তী সব সন্ত্রাসী হামলার বিচারের হবে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সাধারণ ভোটার সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের ওপর হওয়া সব সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠ তদন্ত করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো সন্ত্রাসী রেহায় পাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট এ সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে।

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)

Location :

Jashore
যশোরের চৌগাছায় বিএনপির হামলার শিকার এক কর্মীকে সান্ত্বনা দেন জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ
যশোরের চৌগাছায় বিএনপির হামলার শিকার এক কর্মীকে সান্ত্বনা দেন জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ |নয়া দিগন্ত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সাধারণ ভোটার সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের ওপর হওয়া সব সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠ তদন্ত করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো সন্ত্রাসী রেহায় পাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট এ সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে। আমি এ এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এখন সবাই আমার লোক। সুতরাং কাউকে অন্যায় ভাবে হয়রানি করা হবে না। তবে কেউ যদি সন্ত্রাসের পথ ধরে এগোতে চাই তাদেরকে প্রতিহত করা হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী যশোরের চৌগাছা উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় জামায়াত সমর্থিত নেতা-কমীদের উপর হামলা ও বাড়ীঘর ভাংচুরের ঘটনা পরিদর্শনে এসে শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ এসব কথা বলেন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাবেক প্যানেল মেয়র মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল খালেক, জামায়াত নেতা মাস্টার ইমদাদুল হক, মাওলানা সামছুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় তিনি আহত নেতা-কর্মীদের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেন। তিনি উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী গ্রামে সাবেক সেনা সদস্য অলিয়ার রহমানের বাড়িতে যান। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার অপরাধে সন্ত্রাসীরা লোহার রড, সাবল, গাছিদা ইত্যাদি নিয়ে হামলা চালিয়ে তার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করেছে। এ সময় বাড়িতে থাকা সবাইকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে।

এদিকে সন্ত্রাসীরা উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মন্টু মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম (৫০) ছেলে পিয়াস উদ্দীন (৩৫), মতিয়ারের স্ত্রী রোকেয়াকে (৪৯) পিটিয়ে আহত করে। একই দিন উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের দূর্গাবরকাটি গ্রামের মৃত আব্দুল খালের ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন (৫০) তার ছেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহাবাজ হোসেন (২৫) ও মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (১৭) কে পিটিয়ে আহত করে ও বাড়ী ভাংচুর করে। এদিকে একই ইউনিয়নের আফরা গ্রামের হাফেজ নজির আহম্মেদের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা হাফেজ নজির আহম্মেদ (৫০) তার স্ত্রী নাজনীন সুলতানা (৪৫) মেয়ে নাজমিন নাহার সাথীকে (২৪) পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে থাকা দাঁড়িপাল্লার ব্যানারে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে একই গ্রামের পল্লীচিকিৎসক সামছুল হক (৭০) শাহাজান আলী (৬৫) কবির হোসেন (৩৫), ইসমাইল হোসেনকে (৬৫) পিটিয়ে আহত করে।

আহত সামছুল হক বলেন, আমরা জামায়াতে ভোট দেয়ায় বিএনপি নেতা দূর্গাবরকাটি গ্রামের মৃত নবী উল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ ও তার ভাই ইউছুফ আলী, একই গ্রামের সন্ত্রাসী মেহের আলী ও শাহ আলমের ছেলে মিলন হোসেনসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা আমাদের ওপরে হামলা চালায়। এ সকল ঘটনায় থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে একই ইউনিয়নের চারাবাড়ী গ্রামের মৃত কারী রফিকুল্লাহর ছেলে হাফেজ বাহা উদ্দীন (৪৫), পিটিয়ে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা।

এ ব্যাপারে চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী কয়েকটি হামলার ঘটনা শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।