যশোরের চৌগাছায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্য এলাকায় নেয়ার সময় ৩৭ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ সার বহন করার অপরাধে আলমসাধু চালক টিটোন হোসেনকে (৪১) দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে পৌর শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।
উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার এলাকার খাইরুল ট্রেডার্স থেকে ৩৭ বস্তা সরকারি সার অবৈধভাবে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি এম এ মুনীব এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করেন।
পরে জব্দ করা সারের মধ্যে ১০ বস্তা ইউরিয়া, ৫ বস্তা এমওপি, ১২ বস্তা টিএসপি এবং ১০ বস্তা ডিএপি সরকারি দামে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়। বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে সারগুলো চৌগাছার বাইরে নেয়া হচ্ছিল।
এ ঘটনায় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় সার বহনকারী গাড়িচালক টিটোন হোসেনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ধ্যায় খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত খাইরুল ইসলাম উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের মরহুম রওশন আলীর ছেলে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, ‘জব্দ করা সার আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র মাঝে মাঝে সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কালো পলিথিনে ঢেকে আলমসাধু, ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যায়। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি এম এ মুনীব বলেন, ‘কৃষকের স্বার্থবিরোধী যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’



