চট্টগ্রাম বন্দরে ৫২ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে ভিড়েছে ২ ট্যাংকার

এমটি সেন্ট্রাল স্টার নামের জাহাজটি ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে জেটি-৫ এ এবং ইস্টার্ন কুইনস্ নামের অপর জাহাজটি ২৫ হাজার ৮৬৪ টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ডলফিন অয়েল জেটি-৬ এ নোঙ্গর করেছে।

নূরুল মোস্তফা কাজী, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
চট্টগ্রামের ম্যাপ
চট্টগ্রামের ম্যাপ |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৫২ হাজার টন অকটেন ও ফার্নেস অয়েল নিয়ে নোঙ্গর করেছে দু’টি ট্যাংকার জাহাজ।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বন্দরের ডলফিন অয়েল জেটিতে জাহাজ দু’টি নোঙ্গর করে।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, এমটি সেন্ট্রাল স্টার নামের জাহাজটি ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে জেটি-৫ এ এবং ইস্টার্ন কুইনস্ নামের অপর জাহাজটি ২৫ হাজার ৮৬৪ টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ডলফিন অয়েল জেটি-৬ এ নোঙ্গর করেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি ভিটল অকটেনের চালান এবং ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকু (বিএসপি) ফার্নেস অয়েলের চালানটি সরবরাহ করেছে। উভয় তেলবাহী ট্যাংকারই এসেছে মালয়েশিয়া থেকে।

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরুর পর মার্চে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে ১০টি জাহাজ দেশে এলেও অকটেন নিয়ে কোনো জাহাজ আসেনি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এটিই অকটেন নিয়ে আসা প্রথম ট্যাংকার বলে সূত্র জানায়।

বন্দরে আসা ট্যাংকার থেকে অকটেন খালাস ও সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও ফার্নেস অয়েল খালাস ও সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড।

অকটেন মূলত মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসের জ্বালানি। বিপিসি তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে সরবরাহ করা জ্বালানির মধ্যে অকটেন ছিল ৬ শতাংশ। ওই অর্থবছরে দেশে অকটেন বিক্রি হয়েছে চার লাখ ১৫ হাজার টন।

হাই-সালফার ফার্নেস অয়েল সাধারণত কালো তেল হিসেবে পরিচিত। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফার্নেল অয়েলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে এবং চলতি সেচ মৌসুমে এর বাড়তি চাহিদা থাকে। এ ছাড়া ছোট-বড় শিল্পকারখানায় চুল্লি বয়লার ও সমুদ্রগামী জাহাজে জ্বালানি হিসেবে এ তেল ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বিদেশ থেকে সরাসরিও ফার্নেস অয়েল আমদানি করে। আবার একটা অংশ বিপিসি থেকে সংগ্রহ করে। বিপিসি গত অর্থ বছরে নয় লাখ টনের কাছাকাছি ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করেছে বলেও সূত্র জানায়।

ফার্নেস তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ ইস্টার্ন কুইনস্ -এর স্থানীয় এজেন্ট একুয়াট ট্রান্স লাইনের ডিজিএম অপারেশন রিফাত চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ট্যাংকারটি জেটিতে ভিড়েছে। তেল খালাস কার্যক্রম দেখভাল করছে যমুনা অয়েল কোম্পানি। খালাস সম্পন্ন হতে শনিবার পর্যন্ত সময় লাগবে।’

এদিকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তিনটি এলএনজিবাহী ট্যাংকার জাহাজ এবং দু’টি এলপিজিবাহি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম আসছে বলে জানা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেস্কিকোর ইনগ্লেসাইড পোর্ট থেকে রওনা দেয়া এলএনজি বোঝাই ট্যাংকার জাহাজ ইমমইআই শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী হংকং -এর পতাকাবাহী এলএনজি ট্যাংকারটি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করেছে।

এ ছাড়া এলএনজি বোঝাই আরো দু’টি ট্যাংকার জাহাজের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কংটং শনিবার এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ম্যারান গ্যাস হাইড্রা নামের এলএনজি ট্যাংকার ১৫ এপ্রিল চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম দু’টি জ্বালানী তেল বোঝাই ট্যাংকার বন্দরের জেটিতে নোঙ্গর করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এলএনজি বোঝাই তিনটি ট্যাংকার এবং এলপিজি বোঝাই দু’টি ট্যাংকার জাহাজ আসার সিডিউল রয়েছে বলেও জানান তিনি।