বিপৎসীমার উপরে সুরমা-কুশিয়ারার পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিন উভয় নদীর পানির সমতল আবারো বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে নদী দু’টির আরো কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমা নদীর পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা
বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমা নদীর পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা |নয়া দিগন্ত

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আবারো বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সোমবার (২০ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকাল ৯টার বুলেটিন (পানি পরিস্থিতির বিবরণী) অনুযায়ী, সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিন উভয় নদীর পানির সমতল আবারো বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে নদী দু’টির আরো কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেয়ার পাশাপাশি চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।

এদিকে সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ দুই নদীর কিছু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির জন্য ভারতের মেঘালয় ও আসামে গত ২৪ ঘণ্টার অতি ভারি বৃষ্টিপাতকে দায়ী করা হয়েছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, মেঘালয়ের উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মিলিমিটার, আর কে এম সোহরায় ২৮২ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ২৭৯ মিলিমিটার, তুরায় ১০১ মিলিমিটার ও আসামের গৌহাটিতে ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসব উজানের বৃষ্টির প্রভাব আগামী কয়েক দিন সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানির ওপর অব্যাহত থাকতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো: সজীব হোসাইন জানান, গত ২৭ ঘণ্টায় রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৭০ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী চার-পাঁচ দিন সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।