উজিরপুরে দুই মাসেই উঠে যাচ্ছে ৭৫ লাখ টাকার সড়কের পিচ

সড়ক উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যে উঠে যাচ্ছে পিচ ও পাথর। ঠিকাদারীর অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সড়ক এতো অল্প সময়ে নষ্ট হওয়ার প্রকৃত কারণ বের করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

বিএম রবিউল ইসলাম, উজিরপুর (বরিশাল)

Location :

Wazirpur
সড়কের পিচ-পাথর উঠে যাওয়া রাস্তা
সড়কের পিচ-পাথর উঠে যাওয়া রাস্তা |নয়া দিগন্ত

উদ্বোধনের দুই মাসও পূর্ণ হয়নি। এরই মধ্যে উঠে যেতে শুরু করেছে পিচ ও পাথর। কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট গর্ত, কোথাও দেবে গেছে সড়কের কিনারা। বরিশালের উজিরপুরে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সড়কের এমন দশায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রশ্ন, এতো কম সময়ে সড়কটি নষ্ট হওয়ার কারণ কি ও নির্মাণকাজের মান যাচাই ও তদারকিতে ঘাটতি ছিল কিনা।

জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নয়াকান্দি ফুটব্রিজ থেকে দক্ষিণ সাতলা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। মেসার্স তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কয়েকটি স্থানে পিচ ও পাথর উঠে গেছে। কোথাও কোথাও ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। সড়কের কিনারার কিছু অংশও দেবে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি নির্মাণের দুই মাস না যেতেই এসব সমস্যা দেখা দিয়েছে। অথচ এই সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচলও তেমন নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা অমল বলেন, ‘দুই মাসও হয়নি রাস্তা নির্মাণের। এরই মধ্যে পিচ-পাথর উঠে যাচ্ছে। আমরা ভালো মানের রাস্তা চেয়েছিলাম। সরকারি এতো টাকা খরচ করে নির্মাণ করা রাস্তা যদি এতো দ্রুত নষ্ট হয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার।’

স্কুলছাত্র নিরব বলে, ‘রাস্তায় অনেক জায়গায় পিচ উঠে গেছে। কোথাও গর্তও হয়েছে। নতুন রাস্তা হওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম অনেক দিন ভালো থাকবে। এখন রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।’

বয়োজ্যেষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এর আগে এমন নতুন রাস্তা এতো দ্রুত নষ্ট হতে দেখিনি। কাজের সময় ঠিকমতো তদারকি করা হলে এমন হওয়ার কথা নয়। রাস্তার কাজ কিভাবে হয়েছে, সেটি কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা করে দেখা উচিত।’

সড়কের এমন অবস্থায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের সময় যথাযথ তদারকি করা হলে এতো অল্প সময়ে সড়কটির পিচ-পাথর উঠে যাওয়ার কথা নয়। তারা সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের মান ও কাজের তদারকি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একাংশের মালিক মো: মহিউদ্দিন নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে সেগুলো মেরামত করা হবে।’

তবে উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে পানি জমে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করে দেয়া হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, বৃষ্টির কারণে যদি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে নির্মাণের দুই মাসের মধ্যেই কেন পিচ ও পাথর উঠে গেল? তাদের মতে, প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির নির্মাণমান পরীক্ষা করা জরুরি।

স্থানীয়রা দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি সড়কটির নির্মাণকাজের মান যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি সড়ক এতো অল্প সময়ে নষ্ট হওয়ার প্রকৃত কারণ বের করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। সড়ক নির্মাণে কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কের মান নিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।’