দাউদকান্দিতে রোজার আগেই নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

Location :

Daudkandi
নিত্যপণ্যের বাজার
নিত্যপণ্যের বাজার |নয়া দিগন্ত

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
সংযমের মাস শুরু হওয়ার আগেই কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। রমজানের দোহাই দিয়ে সবজি ও মুদি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বাজারে তার সুফল মিলছে না; বরং চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজের দামে নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার পৌর বাজার, গৌরীপুর ও ইলিয়টগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে, আর চিকন চালের দাম ঠেকেছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। মুদি দোকানে ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০-১৭০ টাকা এবং মুগডাল ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।শীতের মৌসুম শেষের দিকে হলেও বাজারে সবজির অভাব নেই, কিন্তু দামে স্বস্তি নেই। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লেবুর দাম; প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায় (পিস প্রতি ৩৫-৪০ টাকা)।

অন্যান্য সবজির মধ্যে বেগুন ৮০-১০০ টাকা (কেজি),টমেটো ৫০-৬০ টাকা,গাজর, শিম ও বরবটি ৬০-৭০ টাকা,ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০-৬০ টাকা (প্রতি পিস),পালংশাক ৩০ টাকা এবং লালশাক ২০-২৫ টাকা আঁটি। মাছের বাজারে মাঝারি রুই ৪৫০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছেবাজারে আসা রায়হান নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সংযমের মাসকে পুঁজি করে যারা জুলুম করছে, তাদের ওপর আল্লাহর গজব পড়ুক। আমাদের আয় বাড়ছে না, কিন্তু জিনিসের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।’

অন্যদিকে গৌরীপুর বাজারের ব্যবসায়ী গৌরাঙ্গ কৃষ্ণ লাল জানান, কোম্পানি ও ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মাংস বিক্রেতা মনির কসাইয়ের দাবি, গৃহস্থরা রমজানের অজুহাতে গরুর দাম বাড়িয়ে দেয়ায় খুচরা বাজারে মাংসের দাম কমাতে পারছেন না তারা। বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুধী সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বাজার কমিটির দায়িত্বশীল সদস্য দেলোয়ার মিয়াজী রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দিয়েছেন।

এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন রমজান উপলক্ষে কেউ যেন কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বাজার মনিটরিং করা হবে। জনগণের কষ্ট লাঘবে আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

ভোক্তাদের দাবি, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।