চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার নিখোঁজ কিশোর জিসানকে যৌথ অভিযানে উদ্ধার করেছে থানা ও ডিবি পুলিশ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নগরীর রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি কুলিং কর্ণার থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের পর মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি ভিন্ন মোড় নেয়।
জিসান (১৫) চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুনছুর আলীর ছেলে। তিনি নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকায় একটি কার ও মাইক্রোবাস গ্যারেজে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন জিসান। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে গত ২১ এপ্রিল কর্ণফুলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে দেয়া হয়, যা দ্রুত স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
নিখোঁজের পর ২১ এপ্রিল পরিবারের কাছে অজ্ঞাত নম্বর থেকে একাধিকবার কল আসে। কলদাতা নিজেকে অপহরণকারী পরিচয় দিয়ে জিসানকে আটকে রাখার দাবি করে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৭ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, কলে কিশোরের কণ্ঠস্বরও শোনানো হয়েছিল, যা তাদের আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দেয়। তবে নাটকীয় মোড় আসে উদ্ধারের পর।
কিশোরের মামা মোজ্জামেল হোসেন জানান, পারিবারিক অভিমান থেকেই জিসান বাড়ি ছেড়ে বের হয়ে যায়। প্রথমে সে নগরীর ভেড়া মার্কেট এলাকায় কয়েকদিন অবস্থান করে এবং পরে রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি কুলিং কর্ণারে আশ্রয় নেয়।
তিনি আরো জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের খবর ভাইরাল হওয়ার সুযোগ নেয় একটি প্রতারক চক্র। তারা নিজেদের অপহরণকারী পরিচয় দিয়ে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এবং ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এমনকি একপর্যায়ে একটি নম্বর থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পাঠানোর কথাও বলা হয়, যা সন্দেহ আরো বাড়িয়ে তোলে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাহীনূর আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা জিসানের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হই। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এই ঘটনায় জড়িত প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে তাকে উদ্ধারে প্রশাসনের তৎপরতা ছিল অত্যন্ত জোরালো ও প্রশংসনীয়। নিখোঁজের খবর পাওয়ার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত চালিয়ে যায় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে। পরে থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই কিশোরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও প্রতারক চক্রের এমন অপতৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ সকলকে এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।



