বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ সেই বাবা-ছেলের লাশ উদ্ধার

এরআগে গত বুধবার রাতে বঙ্গোপসাগরের পাইপবয়া এলাকায় ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।

‎গোলাম কিবরিয়া, ‎পটুয়াখালী

Location :

Patuakhali
নিহত বাবা-ছেলে
নিহত বাবা-ছেলে |সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরার ট্রলার ডুবে নিখোঁজ থাকা বাবা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত এবং আজ শুক্রবার সকালে ডুবে যাওয়া ট্রলারের মধ্য থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও স্বজনেরা।

ভুক্তভোগীরা হলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা বাঁধঘাট এলাকার মো: শামীম জোমাদ্দার (৪০) ও তার ১১ বছর বয়সী ছেলে সিয়াম। এরআগে গত বুধবার রাতে বঙ্গোপসাগরের পাইপবয়া এলাকায় ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।

নিহত জেলে শামীম জোমাদ্দাররের বাবা ভুক্তভোগী মো: সিদ্দিক জোমাদ্দার (৫৫) বলেন, ‘দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ট্রলারে তিনিসহ মোট ছয়জন মাঝিমাল্লা ছিল। গত বুধবার রাতে ঝড় ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের তাণ্ডবে তার মালিকানাধীন ট্রলারটি ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকে সাগরে নিমজ্জিত হয়। ডুবে যাওয়ার পর তিনিসহ চারজন অন্য জেলেদের সহায়তায় উদ্ধার হলেও তার ছেলে শামীম ও ১১ বছর বয়সী নাতি সিয়াম নিখোঁজ ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ডুবে যাওয়া ট্রলারের মধ্য তাদের লাশ খুঁজে পায় স্থানীয় জেলে ও স্বজনেরা।

জীবিত উদ্ধার জেলে শাওন হাওলাদার জানান, ‘গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা বাঁধঘাট থেকে এমভি সিদ্দিক নামের একটি ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরতে যায় তারা। তাদের ট্রলারে মোট ছয়জন মাঝিমাল্লা ছিল। সাগরে পৌঁছে দুই দিন মাছ ধরার পর গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে পাইপবয়া (জেলেদের দেয়া নাম) এলাকায় ট্রলার নোঙ্গর করে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে ঝড় ও ঢেউয়ের তাণ্ডবে ট্রলারে নিচের অংশ ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এরপর ট্রলারটি উল্টে যায়। এসময় উল্টে যাওয়া ট্রলারে নিখোঁজ থাকার শামীমের বাবা মো: সিদ্দিক জোমাদ্দার (৫৫), মো: শাওন (২৪), মো: রাব্বী (১৮) এবং রাসেদ (২০) আশ্রয় নেন। এসময় শামীম ও তার ১১ বছরের ছেলে সিয়াম নিখোঁজ থাকে।

নিহত জেলে শামীম জোমাদ্দারের ছোট ভাই সাকিব জোমাদ্দার সোহেল জানান, দুর্ঘটনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তার ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তার ভাতিজার সিয়ামের লাশ খুঁজে পায় তারা।

উদ্ধারের আগে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র মন্ডল ও রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শিরাজুল ইসলামের বক্তব্য ছিল, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে নিখোঁজের বিষয়টি জেনে তারা স্থানীয় কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরাদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকার কল দেয়া হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।