চৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

যশোরের চৌগাছায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশে গুদামজাত করে রাখা ২৭১ বস্তা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)

Location :

Chaugachha
চৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা
চৌগাছায় ২৭১ বস্তা সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা |নয়া দিগন্ত

যশোরের চৌগাছায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশে গুদামজাত করে রাখা ২৭১ বস্তা সার জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌগাছা পৌর শহরের পারবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনীব।

এ সময় একটি গুদাম থেকে ২৭১ বস্তা সার জব্দ করা হয়। খাইরুল ইসলাম নামে অভিযুক্ত এক ব্যবসায়ীকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন, উপজেলা বিএডিসি সার ডিলার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইউনুচ আলী দফাদার, চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার ও চৌগাছা থানা পুলিশ। জব্দ করা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে।

এদিকে সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি এম এ মুনীব এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন পৌর শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ১০ বস্তা ইউরিয়া, ৫ বস্তা এমওপি, ১২ বস্তা টিএসপি এবং ১০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করেন। পরে সরকারি দামে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সব সার বিক্রি করা হয়। বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। এ সার বহন করার অপরাধে আলমসাধু চালক টিটোন হোসেনকে (৪১) ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিন সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত খাইরুল ইসলাম উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র নিয়মিত সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কালো পলিথিনে ঢেকে আলমসাধু, ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যায়। তারা এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, ‘জব্দ করা সার প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরকারি দামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি এম এ মুনীব বলেন, ‘কৃষকের স্বার্থবিরোধী যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’