চট্টগ্রামে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, সিএমপির ৮ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

রোববার বিকেলে সিএমপির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

নূরুল মোস্তফা কাজী, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
চট্টগ্রামের ম্যাপ
চট্টগ্রামের ম্যাপ |ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুনব্রিজ পুলিশ চেকপোস্টে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে সিএমপির এসআই থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিএমপির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়ার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আদেশটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করা হয়েছে উল্লেখ করে সূত্র জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং বৈধ আদেশ অমান্যের অভিযোগে পিআরবি বিধি-৮৮০ অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনায় জড়িত কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কনস্টেবলকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন বাকলিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার, বর্তমানে কোতোয়ালী থানায় কর্মরত এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন, এএসআই সাইফুল আলম, এএসআই মো: জিয়াউর রহমান, এএসআই মো: সাদ্দাম হোসেন ও এএসআই এনামুল হক, কনস্টেবল মো: রাশেদুল হাসান ভূঞা এবং নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না।

উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি এসি বাস নতুনব্রিজ পুলিশ চেকপোস্টে তাশির সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল মো: ইমতিয়াজ হোসেনের সাথে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে আনুমানিক ৮০ হাজার থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবা যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেন এবং রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে, কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ইয়াবার চালান বহনে সম্মত হয়েছিলেন। ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ার পর কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন ‘সেফ এক্সিট’ চেয়ে পুলিশ সদস্যদের কাছে অনুনয় করেন। এরপর ইয়াবার চালানগুলো ট্রলি থেকে বের করে পুরো চালান পুলিশের হেফাজতে রেখে কেবল কাপড়চোপড়সহ ব্যাগটি তাকে ফেরত দেয়া হয়।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। তবে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনের স্বীকারোক্তি, বাসের সুপারভাইজারের বক্তব্য এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যের জবানবন্দিতে পুরো ঘটনা প্রমাণিত হয় বলে সূত্র জানায়।