ডা: শফিকুর রহমান

জামায়াতের কেউ আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথানত করে না

‘আমরা নিজেরা খাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না, দলীয় কর্মীদের পেট ভরানোর জন্যও রাজনীতি করি না। বরং এ দেশের দুঃখী, ভুখা, নাঙ্গা মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে এবং পিঠে কাপড় তুলে দিতে রাজনীতি করি। ইনশাল্লাহ, এটাই হবে আমাদের সংগ্রাম।’

হুসাইন মালিক, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
জনসভায় বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান
জনসভায় বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান |ছবি : নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাতে হবে। জামায়াতের কেউ আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথানত করে না। নির্বাচনী মাঠে কেউ যদি ফ্যাসিবাদের চেহারা নিয়ে আসে, তাহলে তাকে লাল কার্ড দেখানো হবে। যেমন ২০২৪ সালে যুবসমাজ ফ্যাসিবাদীদের লাল কার্ড দেখিয়েছিল।

সোমবার চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের টাউন ফুটবল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ও ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ২৪-এর বিপ্লবের একজন নায়ক। সে কারো কাছে মাথানত করেনি বলেই তাকে শহীদ করা হয়েছে। যে দেশে শহীদ আবরার ফাহাদ, শহীদ আবু সাইদদের জন্ম হয়, সে দেশে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী মূল্যবোধের প্রসারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের জয় হয়েছে। তাই আগামীর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইসলামের জয় হবে।

জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না। জনগণের সামনে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা তাদের সম্পদের হিসাব দেবেন। তাই আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করবেন।

যুবসমাজকে সংগঠিত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের যুবকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে—নৈতিকতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ। কেউ বেকার থাকবে না।

রাজনীতির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা নিজেরা খাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না, দলীয় কর্মীদের পেট ভরানোর জন্যও রাজনীতি করি না। বরং এ দেশের দুঃখী, ভুখা, নাঙ্গা মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে এবং পিঠে কাপড় তুলে দিতে রাজনীতি করি। ইনশাল্লাহ, এটাই হবে আমাদের সংগ্রাম।

ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করে, তাহলে দেশ জয়ী হবে। আগামী দিনে আর কোনোভাবেই দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিন। হ্যাঁ ভোট মানে আজাদি, আর না ভোট মানে গোলামি।

আগামী দিনের সরকারের চরিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আগামী দিনের সরকার হবে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সরকার, দুর্নীতিমুক্ত সরকার, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরকার এবং তা হবে ইসলামের সরকার।

ভোট কারচুপির বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটের পাহারা দিতে হবে। কেউ যদি ভোট দখল করতে আসে, তাহলে তা প্রতিরোধ করতে হবে।

জনসভা শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আয়কর আইনজীবী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান এবং এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

পুরো জনসভাটি পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ। এ ছাড়া জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারাসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।