মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সদর উপজেলার শেরপুরের কুশিয়ারা নদীর তীরে দুই দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়।

আব্দুল আজিজ, মৌলভীবাজার

Location :

Maulvibazar
মেলার একটি দোকান
মেলার একটি দোকান |নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজারে চলছে দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এ মাছের মেলা জমে ওঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সদর উপজেলার শেরপুরের কুশিয়ারা নদীর তীরে দুই দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়।

অয়োজকরা জানান, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রায় ৩০ একর এলাকা জুড়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মাছের পাশাপাশি এতে রয়েছে লোকজ ঐতিহ্যের আসবাবপত্র, পিঠাপুলি ও নানান জাতের গৃহস্থালি সামগ্রী।

ব্যবসায়ীরা জানান, মেলায় ১৯টি পাইকারি দোকান ও ২৪০ জন খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন। মাছ কিনতে প্রচুর ক্রেতা মেলায় ভিড় করছেন। পৌষ সংক্রান্তি উৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পিঠা ও খাবারের দোকান মেলাকে প্রণবন্ত করেছে।

সদর উপজেলার শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীরে প্রায় ২০০ বছর ধরে চলে আসছে এ মেলা। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। মেলায় মাছের আকার ভেদে পাঁচ হাজার টাকা থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, দেশীয় প্রজাতির মাছ কিনতে তারা মেলায় এসেছেন। মাছের দাম এবার কিছুটা কম।

ব্যবসায়ী আরবেশ আলী বলেন, ‘আমি ১০ লাখ টাকার মাছ এনেছি, দাম কমে যাওয়ায় এখন বেকায়দায় আছি।’

আরেক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মেলায় নদী ও হাওরের মাছ নিয়ে আসা শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে নানা আকারের বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতল, বাঘাইড় (বাঘ মাছ) নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা এখন এলাকার অন্যতম উৎসবে পরিণত হয়েছে।

সরকার বাজারের ক্রেতা কফিল উদ্দিন বলেন, ‘এ মেলা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। আমরা প্রতিবছর অপেক্ষায় থাকি কখন মেলা শুরু হবে। কারণ অনেক দুর্লভ মাছ আছে যা একমাত্র এ মেলায় পাওয়া যায়।

এছাড়া মেলায় বিভিন্ন ধরনের খাবার হোটেল, তিলুয়া-বাতাসা, খৈ, মুড়ি, নানারকম মৌসুমী ফল, শিশুদের খেলনা, কিশোরী ও তরুণীদের প্রসাধনী, শীতের কাপড়-চোপড়, বাঁশ-বেত ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, ঘর-সংসারের নানারকম মাটির বাসন-কোসন, কাঠের জিনিস, লৌহ শিল্পের অনেক সামগ্রী ও গ্রামীণ কৃষি যন্ত্রপাতি, হরেক রকম চোখ ধাঁধানো পণ্যের দোকান বসেছে।

মেলার ইজারাদার আব্দুল হামিদ বলেন, ‘শেরপুর বাজারের আশপাশের ৫-৬টি গ্রামের মানুষ মিলে আমরা মেলা পরিচালনার জন্য ইজারা নেই। এখানে ঢাকা রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা মাছ নিয়ে আসেন। মেলায় ২০টি পাইকারি দোকান ও ২৫০টি খুচরা মাছের দোকান রয়েছে। কোটি টাকার উপরে বেচাকেনা হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

মৌলভীবাজার সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিব হাসান বলেন, ‘সাত লাখ টাকার উপরে বাজারের ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হলেও ইজারাদাররা টাকা পরিশোধ করেননি। ইজারার মূল্য দিতে না পারায় গতকাল রি-টেন্ডার করা হয়। এক দিনের জন্য এক লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’