কুমিল্লায় মসজিদের সামনে ও মন্দিরের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত ও মসজিদের মুসল্লিসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর ঠাকুরপাড়া বাগান বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন বাগানবাড়ি কালিগাছতলা মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী, বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবদুল বারেক ও জিহাদ।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন নারী ও পুরোহিত মন্দিরে পূজা করছিলেন। একজন কিশোর পশ্চিম দিক থেকে দৌঁড়ে সালাউদ্দিন হোটেলের দিকে চলে যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মন্দিরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপরই আগুন ধরে যায়।
বাগানবাড়ি এলাকার স্থানীয় দোকানি মো: ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আমি দোকান বন্ধ করে শিশু সন্তানকে নিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছিলাম। একটু সামনে এগুতেই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। মনে হচ্ছিল কানের ফর্দা ফেটে যাবে। মুসল্লিরা অনেকেই নামাজ শেষ করে বের হচ্ছিলেন। সবাই দৌড়াদৌড়ি করে বিভিন্ন ভবনে আশ্রয় নেন। দুষ্কৃতকারী তিন-চারজন দৌড়াতে দৌড়াতে পূর্ব দিকে চলে যায়।’
আহত আবদুল বারেক বলেন, ‘আমি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হচ্ছিলাম। এসময় বিকট শব্দ হয়। আচমকা পায়ের ওপর কিছু একটা এসে পড়েছে মনে হয়। তবে আমি কাউকে দেখিনি।’
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক তাপস বকশি বলেন, ‘এটি সম্প্রীতি নষ্টের উদ্দেশে হামলা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ কিছু আলামত জব্দ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল ও ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করি।’
পূজা ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি শ্যামল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘এখানে বৌদ্দ মন্দির, হিন্দুদের দু’টি মন্দির ও মসজিদসহ একাধিক স্পর্শকাতর জায়গা রয়েছে। এ জায়গা লক্ষ্য করেই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।’
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত ও পথচারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। দুষ্কৃতকারীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।


