দিনাজপুরের খানসামার হলদিপাড়ায় অবস্থিত খানসামা ফিলিং স্টেশনে তেল কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মোটরসাইকেল চালকসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহারকারীরা।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামের তুলনায় কম পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কেউ এক হাজার টাকার তেল কিনতে গেলে পাচ্ছেন আনুমানিক ৮০০ টাকার সমপরিমাণ তেল। একইভাবে ৬০০ টাকার তেলের বিপরীতে দেয়া হচ্ছে প্রায় ৫০০ টাকার তেল। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে মাইলেজ কমে যাওয়া এবং তেলের পরিমাণে অসামঞ্জস্য দেখে প্রতারণার বিষয়টি টের পাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক মোস্তাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল কিনি। কিন্তু এক হাজার টাকা দেয়ার পরও আমাকে প্রায় ৮০০ টাকার তেল দেয়া হয়েছে। এটা সরাসরি প্রতারণা।’
আরেক ভুক্তভোগী সোহান আলী বলেন, ‘আমার ছেলে চার হাজার ১৯০ টাকার ডিজেল কিনেছে। পাম্পের কর্মচারীকে চার হাজার ৫০০ টাকা দিলে ১৫০ টাকা ফেরত দেন। বাকি ১৬০ টাকা চাইতে গেলে বলে, ‘মহাজনের কাছে বলেন’। পরে মহাজনের কাছে গেলে বাকি টাকাও ফেরত পাই। এতে ভোগান্তি ও হয়রানি দু’টোই হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষের ব্যবহার ভালো নয়। তারা গ্রাহকদের সাথে যথাযথ আচরণ করেন না।’
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিং স্টেশনটিতে এ ধরনের অনিয়ম চললেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি বা দৃশ্যমান কোনো অভিযান চোখে পড়ছে না। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ তাদের।
অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারীর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।
তবে বিভাগীয় কমিশনার মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


