সৈয়দপুরে ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার, আটক ৭

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা প্রায় ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। যার সর্বমোট মূল্য চার লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকা।

মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

Location :

Saidpur
অভিযানে আটক ব্যক্তিরা
অভিযানে আটক ব্যক্তিরা |নয়া দিগন্ত

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা প্রায় ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। এর সাথে জড়িত সাতজনকে আটক করার পর দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১০টায় উপজেলার কামারপুকুর ধলাগাছ সুখিপাড়ার ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকার বাইপাস সড়ক সংলগ্ন রোকেয়া এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), কর্মচারী মেরাজ (২৫), সাগর (২২), আইনুদ্দিন (৩০), জাহাঙ্গীর (২৩), আলমিস (২৬) ও সিরাজ (২০)। এছাড়াও একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

অভিযানে পাঁচটি লরি, একটি কাভার্ডভ্যান, একটি মাইক্রোবাসসহ বড় বড় প্লাস্টিকের ড্রাম জব্দ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাভার্ডভ্যান, তেলের লরি, বড় বড় ড্রাম এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে গোপনে তেল মজুদ করে আসছিল। পরে এসব তেল কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হতো।

সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশসহ একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়। অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে অস্থায়ী গুদাম তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে তেল সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

এ সময় ওই গ্যাস পাম্পে অবস্থানরত একটি কাভার্ডভ্যানের ভেতরে অভিনব কায়দায় তৈরি তেল ট্যাঙ্কারসহ মিনি তেল পাম্প দেখা যায়। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের মতো দেখতে একটি মাইক্রোবাসের ভেতরেও প্লাস্টিকের বড় বড় জারকিনে করে তেল পাচারের জন্য নেয়া হয়েছে। একইসাথে তিনটি লরিও রাখা ছিল।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: সাব্বির হোসেন শনিবার মুঠোফোনে জানান, উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে পেট্রোল ছিল ৩৯ হাজার ১৭ লিটার, ডিজেল ৩৩৮ লিটার ও অকটেন ২৪০ লিটার। যার সর্বমোট মূল্য চার লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকা। বিভিন্ন তেল পাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলামের দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আরো ছয়জনকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিনদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে তারা সবাই অর্থদণ্ড দিয়েছে। তাই তাদের ছেড়ে দিয়ে জব্দকৃত গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট মালামাল ফেরত দেয়া হয়েছে।’

প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।