ভাণ্ডারিয়ায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীসহ ৩ ছেলে গ্রেফতার

উদ্ধারের মাত্র ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর হত্যার ক্লু বের করে নিহতের ঘটনাস্থল ও বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা আলামতও জব্দ করা হয়েছে।

মামুন হোসেন, ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর)

Location :

Pirojpur
গ্রেফতার নিহতের স্ত্রী ও তিন ছেলে
গ্রেফতার নিহতের স্ত্রী ও তিন ছেলে |নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ইসমাইল শরীফ (৬০) হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তার স্ত্রী ও তিন ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।

সূত্র জানায়, উদ্ধারের মাত্র ১৬ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ক্লু বের করে নিহতের ঘটনাস্থল ও বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা আলামতও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই জয়নাল শরিফ বাদি হয়ে নিহতের স্ত্রী-সন্তানদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, রোববার সকাল ৬টার দিকে তেলিখালী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকার দক্ষিণ পাশে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে ওসি দেওয়ান জগলুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। পরে নিহত ব্যক্তি উপজেলার হরিণপালা গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল শরীফ বলে শনাক্ত হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। প্রথমেই নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগম এবং তিন ছেলে রুবেল শরীফ, রুমান শরীফ ও রাসেল শরীফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য না দিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে তোলা লাশের ছবি ও আলামতগুলো সিআইডির একটি দল নিয়ে পুনরায় বিশ্লেষণ করা হয়। এ সময় নিহতের মাথা ও কানের পাশে কাঠখেকো পোকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশের গুঁড়ার মতো কণা দেখতে পান তদন্তকারীরা। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে নিহতের বাড়ির বারান্দা সংলগ্ন স্থানে একই ধরনের গুঁড়া, মাটির ফ্লোরে রক্তের দাগ এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া যায়।

এসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, হত্যাকাণ্ডটি অন্য কোথাও নয়, বরং বাড়িতেই সংঘটিত হয়েছে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ আরো জোরদার করা হলে একপর্যায়ে ছেলে রাসেল শরীফ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পুনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা সরঞ্জম ও আলামত উদ্ধার করা হয়।

ওই রাতেই সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। তারা রক্তমাখা কাঠের আলামত, মেঝেতে থাকা রক্তের নমুনা এবং অন্যান্য জৈব আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগমের শরীরেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ। উদ্ধার করা আলামত ও নমুনাগুলো ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে ওসি জানায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ইসমাইল শরীফের সাথে পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহ চলছিল। এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত। সেই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংশ্লিষ্টরা।

তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা বিভিন্ন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করি। ঘটনাস্থলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। সোমবার গ্রেফতার চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা ও অধিকতর তদন্ত শেষে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।’