বরগুনার পাথরঘাটায় নাঈম নামে এক কিশোরকে আটক করে নির্যাতনের অভিযোগে কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো: সুজাউদ্দিন মাহমুদসহ অজ্ঞাতপরিচয় ছয় থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা নিতে বরগুনা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত।
রোববার (১০ মে) পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো: পনির শেখ এ আদেশ দেন। একইসাথে মামলা করে মঙ্গলবার স্বশরীরে হাজির হয়ে আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করার জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: মুবিন।
আদালতের আদেশের সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পোস্ট অফিসের সামনে থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে নাঈম নামে এক কিশোরকে ইয়াবাসহ আটক করে কোস্টগার্ড। আটকের পর বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এসময় নাঈম আটকের সময় নির্যাতনের অভিযোগ করে। সে প্রকাশ্যে নির্যাতনের চিত্র দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করলে খাস কামরায় গিয়ে দেখান। আদালতে নাঈমের নিতম্বের উভয়পাশে আঘাতের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন এবং পরীক্ষার জন্য নির্দেশনা দেন।
ওইদিন আদালত নাঈমের জবানবন্দি নেয় এবং পর্যালোচনায় তাকে নির্যাতনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হয়। পরে আইন অনুযায়ী বরগুনা পুলিশ সুপারকে মামলা করতে নির্দেশনা দেয় আদালত।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: মুবিন বলেন, ‘নাঈমের জবানবন্দি এবং নির্যাতনের চিত্র অনুযায়ী আদালত কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো: সুজাউদ্দিন আহমেদসহ অজ্ঞাতপরিচয় ছয় থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দিতে বরগুনা পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি ১২ মে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার বিযয় লিখিতভাবে অবহিত করার জন্যও নির্দেশনা দেন।’
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদার সরকারি ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।



