বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় প্রায় ৭ মাস ধরে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের ভয়াবহ সঙ্কট চলছে।
সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ মাসের বেশি সময় ধরে টিকা নেই। শুধু তাই নয়, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে উপজেলার প্রায় সব বেসরকারি ফার্মেসিতেও মিলছে না জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন। ফলে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন পশুর কামড়ে আহত রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে।
৭ মাস ধরে চলমান জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সঙ্কট শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি নয়; বরং এটি উজিরপুর উপজেলার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫০৩ জন মানুষের জীবনের ওপর ঝুলে থাকা এক নীরব মৃত্যুঝুঁকি। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হলে ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার লাখ লাখ মানুষের অবহেলা যে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে সে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে অন্তত পাঁচজন রোগী কুকুরে কামড়ের পর চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু ভ্যাকসিন সঙ্কটের কারণে তারা প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে দূরের শহর কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটছেন, যেখানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
শোলক থেকে আশা ভুক্তভোগী অভিভাবক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার সন্তানকে কুকুর কামড়িয়েছে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বলা হয় ভ্যাকসিন নেই। পরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে ঘুরেও পাইনি। এখন আমরা চরম আতঙ্কে আছি।
আরেক ভুক্তভোগী হারতা থেকে আশা সুনীল মণ্ডল বলেন, জলাতঙ্ক যে শতভাগ প্রাণঘাতী, তা সবাই জানে। অথচ ৭ মাসের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকা আমাদের জন্য ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি।
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, সঙ্কট শুধু সরকারি পর্যায়েই নয়। বেসরকারি বাজারেও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক থেকে দুই মাস ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের কোনো সাপ্লাই নেই। কোম্পানি থেকে সরবরাহ বন্ধ। প্রতিদিন অনেক মানুষ এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এস এম মাইদুল ইসলাম বলেন, গত ৭ মাস ধরে আমরা কোনো রেবিস ভ্যাকসিন পাইনি। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই পাওয়া যাবে বলে আশা করি।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলী সুজা বলেন, রেবিস ভ্যাকসিনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ভ্যাকসিন আনার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



