ময়মনসিংহে পশুর হাটে ক্রেতা কম, হতাশ খামারিরা

তিনি এক লাখ ২৫ হাজার টাকায় একটি গাভী কিনে লালন-পালন করেছেন। কিন্তু হাটে এনে ৮০ হাজার টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহে পশুর হাটে ক্রেতা কম থাকায় হতাশ খামারিরা
ময়মনসিংহে পশুর হাটে ক্রেতা কম থাকায় হতাশ খামারিরা |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলেও ময়মনসিংহ জেলার পশুর হাটগুলোতে এখনো জমে ওঠেনি বেচা-কেনা। হাটে গরু-ছাগলের সরবরাহ বাড়লেও সে তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন খামারিরা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) জেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি পশু নিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাতের গরু ও ছাগল হাটে উঠলেও ক্রেতাদের আগ্রহ তুলনামূলক কম। অনেকেই হাটে এসে পশু দেখে দরদাম করলেও শেষ পর্যন্ত কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে দিনভর অপেক্ষার পরও অনেক খামারিকে পশু বিক্রি না করেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা প্রায় দুই লাখ চার হাজার ১৪৮টি। এর বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ২৬৬টি। সে হিসাবে প্রায় ৪৪ হাজার ৮৮২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ বেশি থাকায় বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

খামারি চাঁন মিয়া জানান, তিনি এক লাখ ২৫ হাজার টাকায় একটি গাভী কিনে লালন-পালন করেছেন। কিন্তু হাটে এনে ৮০ হাজার টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।

একইভাবে আরেক খামারি জাহিদ হাসান বলেন, ‘খরচ অনুযায়ী দাম না পেলে আমাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।’

হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এখনো বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। অনেকেই মনে করছেন, ঈদের কাছাকাছি সময়ে দাম কিছুটা কমতে পারে। আবার কারো মতে, বর্তমান দামের সাথে তাদের বাজেটের মিল নেই বলেই কেনাকাটা পিছিয়ে দিচ্ছেন।

হাট ইজারাদাররা বলছেন, কোরবানির মূল বেচা-কেনা সাধারণত ঈদের আগের কয়েক দিনেই হয়ে থাকে। তাই এখনো বাজার পুরোপুরি জমে না ওঠাটা স্বাভাবিক। তারা আশা করছেন, শেষ সময়ে ক্রেতা বাড়লে পরিস্থিতি বদলে যাবে।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাটগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভেটেরিনারি সেবা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হাটে ক্রেতা বাড়তে শুরু করলে খামারিদের হতাশা কিছুটা কাটবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারি।