মাদারীপুরে হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুরুষশূন্য গ্রাম, ঘটনাস্থলে ডিআইজি

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এ সময় তিনি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
মাদারীপর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রাম পরিদর্শন করেন ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক
মাদারীপর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রাম পরিদর্শন করেন ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরে ওয়াইফাই ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষের অন্তত ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুই ঘটনার পর মাদারীপর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রাম এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এ সময় তিনি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার ও একই এলাকার হাসান মুন্সির মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে মনিরুজ্জামানের চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলার সময় তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসান মুন্সি গ্রুপের অন্তত ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে অনেক পরিবারের শেষ আশ্রয়স্থল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পাল্টাপাল্টি এই দুই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

নিহত আলমগীর হাওলাদারের বোন লাইজু আক্তার বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। আমাদের কেউ হাসান মুন্সির লোকজনের ঘরে আগুন দেয়নি। তারা নিজেরাই আগুন দিয়ে আমাদের নামে অপবাদ দিচ্ছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত হামুমন নেছা বলেন, “আমার ছেলে বিদেশে থাকে, কোনো রাজনীতি করে না। অথচ রাতে এসে আমাদের বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”

বাচ্চু হাওলাদারের মেয়ে ডালিয়া আক্তার বলেন, “আমাদের ঘরে কিছুই নেই। সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এখন বেঁচে থাকার জন্য শুধু গায়ের কাপড়টুকু আছে। কবে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে আমরা মুক্তি পাবো?”

ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে টহল জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

এদিকে আলমগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানায় ৮৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপরদিকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মাদারীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।