ময়মনসিংহের ভালুকায় অসুস্থ বাবাকে পণবন্দী করে তার কোটি টাকা মূল্যের ব্যবসা, নগদ অর্থ ও ব্যাংকের টাকা আত্মসাতসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি লিখে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, মুমূর্ষু বাবাকে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে আটকে রাখা এবং উদ্ধার করতে যাওয়া কন্যার সাথে অশুভ আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে ভালুকা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভালুকা উপজেলার ধলিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের একমাত্র কন্যা নাজমিন আক্তার লিজা।
লিখিত বক্তব্যে নাজমিন আক্তার লিজা জানান, তার বাবা মো: নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সুবাদে তার সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন চাচা শামছুদ্দিন ও চাচাতো ভাইয়েরা। ২০২৫ সালের প্রথম দিকে তার বাবা দেশে ফিরে এলে চাচা শামছুদ্দিন, চাচাতো ভাই আপেল ও আপেলের স্ত্রী নিপু চক্রান্ত করে বিভিন্ন ফিশারি ও মুরগির খামারে এক কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করান। পরে নুরুল ইসলাম তার ভাই ও ভাতিজাদের কাছে ব্যবসার লভ্যাংশ ও হিসাব চাইলে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের কারণে তিনি স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। এই সুযোগে বিবাদিরা তার বাবার জমিজমা ও পাসপোর্টের সব কাগজপত্র নিজেদের দখলে নেয় এবং বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ব্যবসা থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।
লিজার দাবি, তিনি তার অসুস্থ বাবাকে দেখতে চাইলেও তারা তাকে তার বাবার কাছে যেতে দিচ্ছে না। বিভিন্ন সময় থানা পুলিশকে জানিয়েও তিনি এর কোনো সুরাহা পাননি। সর্বশেষ তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট দেন। কিন্তু আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট থাকা সত্যেও পুলিশ তার বাবাকে উদ্ধার করেনি।
তিনি তার অসুস্থ বাবাকে উদ্ধার এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে আপেল মিয়া বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। নুরুল ইসলামকে আটকে রাখার কোনো প্রশ্নই আসে না। গত ১১ মাস ধরে তারা তার চিকিৎসা করিয়ে আসছেন। তার দাবি, এ সময়ে নাজমিন আক্তার লিজা একদিনের জন্যও বাবার খোঁজখবর নেননি।



