সিলেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী

কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের ফসলভিত্তিক সমস্যা-সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে হবে

‘কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে ফসলভিত্তিক সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে হবে।’

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
সিলেটে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী |নয়া দিগন্ত

কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো ফলপ্রসূ করতে মাঠপর্যায়ের বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কৃষকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি কৃষকদের সম্পৃক্ত করে তাদের চাহিদার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে ফসলভিত্তিক সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে হবে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজারকে এলাকার মাটি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উপযোগী ফসল, কৃষকদের চাহিদা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য সহায়তার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পৃথক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সমাধানযোগ্য সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে এবং অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন করতে হবে।

তিনি বলেন, কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সবজি ও ফল চাষ এবং নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ফিল্ড সুপারভাইজারদের কৃষকদের সমস্যা শুনে তা নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় উপজেলার পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের সার্বিক অবস্থা, ভ্যাকসিন সরবরাহ, প্রাণিসম্পদ সেবা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সাথে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালনের পাশাপাশি কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে আরো সক্রিয়, সমন্বিত ও জনমুখী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জৈন্তাপুর উপজেলার কৃষকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন কৃষককে আমন ধানের বীজ ও সার, ৫০০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ ও সার, ৩০ জন কৃষককে লেবুর চারা, ৩০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন বেগুনের বীজ এবং ৫০ জন কৃষককে মরিচের বীজ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ৭৪ জন কৃষক ও ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল হাফিজসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ইসিজি মেশিন হস্তান্তর করেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

এদিকে, সকালে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জৈন্তাপুর উপজেলার বিয়াম ড. কুদরত উল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিতরণ শেষে মন্ত্রী নিজে একটি চারা রোপণ করেন।