শিবচরে ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

শিবচর মডেল মসজিদের সামনে থেকে একটি র‍্যালি শুরু হয় এবং একাত্তর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে একাত্তর চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Shibchar
ইসলামী ছাত্রশিবিরের র‍্যালি
ইসলামী ছাত্রশিবিরের র‍্যালি |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরের শিবচরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জুমার নামাজের পর শিবচর মডেল মসজিদের সামনে থেকে একটি র‍্যালি শুরু হয় এবং পৌর শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অতিক্রম করে একাত্তর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে একাত্তর চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শিবচর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো: মুজাহিদ তালুকদার বলেন, ‘প্রশাসনের বাহিনী ব্যবহার করে আমাদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। সব বাহিনী আমাদের বিরুদ্ধ ব্যবহার করা সত্ত্বেও বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া, সুন্দরবন থেকে বান্দরবন, তামাবিল থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি মাটিতে শিবিরের আবাদ হয়েছে। দীর্ঘ জুলুম ও নির্যাতনের মধ্যদিয়ে শিবিরের ঈমান ও আকিদা বেড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে দীর্ঘ ৫৪ বছর বিভাজনের একটা রাজনীতি তৈরি করে রাখা হয়েছে। জাতির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক বিভাজিত রাজনীতি করে এ জাতির অগ্রগতি রোধ করে। এ জাতিকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। ছাত্রশিবির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ধারণ করে। এ দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটির জন্য যদি কেউ জীবন দিতে প্রস্তুত থাকে, সে হলো বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সুতরাং কোনো ট্টাম্পকার্ড খেলে এ কাফেলাকে তোমরা আটকে রাখতে পারবে না।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিবচর পৌর সভাপতি ডা: বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘১৯৭৭ সালে এই দিনে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুদীর্ঘ ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পদার্পণ করেছি। এ পথ আমাদের জন্য কণ্টকাকীর্ণ ছিল। রক্তে ভেজা পথ ছিল। শাহাদাতের পিচ্ছিল পথ আমাদের পাড়ি দিতে হয়েছে। আমাদের অসংখ্য ভাইকে জীবন দিতে হয়েছে। আমাদের শত শত ভাইকে গুম করা হয়েছিল, আয়নাঘরে নির্যাতন করা হয়েছে, অনেক ভাইদের লাশ বাংলাদেশের বিভিন্ন খালে-বিলে ও নদীতে পাওয়া গিয়েছিল। ক্যাম্পাসগুলোতে আমাদের ভাইদের নির্যাতন করা হয়েছিল। আমাদের হত্যাযোগ্য করে তোলা হয়েছিল। আমরা ন্যূনতম পরিচয়টুকু দিতে পারতাম না। এতকিছুর পরও যারা মেধা, শ্রম ও যোগ্যতা দিয়ে এই সংগঠনকে মহিরূহে পরিণত করেছে তাদের কল্যাণ কামনা করছি।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এমপি প্রার্থী হাফেজ মাওলানা সাইদ উদ্দীন আহমেদ হানজালা বলেন, ‘আমরা ন্যায় ও ইনসাফের লড়াইয়ে নেমেছি। জুলাইয়ের পর ভেবেছিলাম সবাই পরিবর্তন হবে। সবার আচরণে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এ জায়গায় এসে আমরা হোঁচট খাচ্ছি। জুলাইয়ের পর আমাদের অনেক ভাইকে হারাতে হচ্ছে। শহীদ ওসমান হাদি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। হাদি হত্যার বিচার চাই। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে যদি আমি সংসদে যেতে পারি, তাহলে সবার আগে সংসদে গিয়ে শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের বিচার চাইবো, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দেয়া মানে আজাদীর পক্ষে রায় দেয়া, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রায় দেয়া, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন দুদক, স্বাধীনভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়ে এ দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন হওয়া। সুতরাং আমরা আগামী নির্বাচনে তাদের জন্য শ্রম দেবো, যারা ভারতে গিয়ে পালায়নি।’

সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শিবচরের সাবেক সভাপতি শাহ সুলতান ও শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ বাহারসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।