কুষ্টিয়ায় এমপি মুফতি আমির হামজাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানোর প্রতিবাদে এবং দোষীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবিতে রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে কুষ্টিয়া শহরে।
বাদ আসর কালেক্টরেট চত্বর থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক হয়ে মজমপুর গেট, এনএস রোড হয়ে ঘটনাস্থল ৬ রাস্তা মোড়ে সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কুমারখালী-খোকসা আসনের এমপি আবজাল হোসেন, কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মুফতি আমির হামজা, জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার, বর্তমান সেক্রেটারি এনামুল হক, ছাত্রশিবির জেলা শাখার সভাপতি ইমরান বিশ্বাস, শহর সভাপতি আবদুল্লাহ প্রমুখ।
সমাবেশে কুমারখালী-খোকসা আসনের এমপি আবজাল হোসেন বলেন, এমপি আমির হামজা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা এই দেশের হাজার হাজার আলেম ও ওলামাদের ওপর আঘাতের শামিল। যারা এই দুঃসাহসিক হামলা চালিয়েছে, তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে; অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার মাটি জামায়াতে ইসলামীর ঘাঁটি। এই জেলায় জামায়াতের এমপি সন্ত্রাসীদের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হবেন আর আমরা ঘুমাব—তা কখনো চিন্তার সুযোগ নেই। পুলিশ সদস্যদের আমরা বলব, আমরা কারও সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক চাই না। আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত থাকতে চাই। আওয়ামী লীগ ভারতের ইন্ধনে একসময় জামায়াত ও শিবিরকে তাড়ানোর চেষ্টা করে বিফল হয়েছে। তাদেরই রান্না করা ভাত রেখে পালিয়েছে। যারা আমীর হামজার ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের ভাত রান্নার সুযোগ দেয়া হবে না।
তিনি আরো বলেন, আমরা একেবারেই চুনোপুঁটি নই। জামায়াত সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার ভারতের ইন্ধনে আওয়ামী লীগকে মিছিল করার সুযোগ করে দিয়েছে। পুলিশ দুই-একটি চুনোপুঁটি ধরে আর রাঘববোয়ালদের পাহারা দিচ্ছে। পুলিশের সহজাত স্বভাবের কোনো পরিবর্তন নেই। পোষা পুলিশ বাহিনী এখন ভাল হয়নি। আমাদের টাকায় পুলিশের বেতন হয়। পুলিশ সঠিকভাবে ডিউটি না করলে তাদের বেতন ও সুবিধাদি বন্ধ করে দেয়া হবে।
এমপি আবজাল হোসেন বলেন, আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করুন। ভিডিও ফুটেজ দেখুন, এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত। আমরা দেখতে চাই প্রশাসন কী ভূমিকা রাখে। প্রশাসন ব্যর্থ হলে এর চরম মূল্য দিতে হবে। যারা আমীর হামজার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে তাদের বলে দিতে চাই, সাহস থাকলে এগিয়ে আসুন। আমীর হামজার বহরের সামনে এবং পেছনে পুলিশ এস্কর্ট থাকা সত্ত্বেও তার ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। পুলিশ প্রশাসন একেবারে ব্যর্থ হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ইসলামের পক্ষে, তারা আমীর হামজাকে ভালোবাসে। যারা তার কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চায়, তাদের বলে দিতে চাই—আমরা কল্যাণকর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই। প্রশাসনকে বিনীতভাবে বলব, আপনারা গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হলে আমরা কিন্তু ব্যর্থ হব না। আমরা আবার ৫ আগস্টের মতো গর্জে উঠব। আমরা চাই আপনাদের তৎপরতায় দ্রুত তাদেরকে গ্রেফতার করুন।
তিনি বলেন, সরকারের ইন্ধনে আবারো অরাজক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে দেশ। সরকারের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগকে আবারো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী আর এই দেশে স্থান পাবে না। যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগিতার দায়িত্ব নিয়েছেন, তারা জেনে রাখুন—আপনাদের দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে। এই দেশের জনগণ আবারও ফুঁসে উঠবে আর আপনাদের উৎখাত করেই ছাড়বে, ইনশাআল্লাহ।
মুফতি আমির হামজা বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি এবং একজন এমপি। আমার সামনে ও পেছনে পুলিশের এস্কর্ট থাকা সত্ত্বেও আমার ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশের চরম ব্যর্থতাকেই আমি দায়ী করছি। পুলিশের দায়িত্বহীনতায় আমার জীবনহানি হতে পারত।
তিনি আরো বলেন, আমরা বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে আল্লাহর নামে বের হই। আমাদের কোনো পিছুপা হওয়ার সুযোগ নেই; এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। আমার এলাকায় কোনো চাঁদাবাজির স্থান নেই। কার বাবার বুকের কলিজা এত বড় যে চাঁদা দাবি করে? কেউ চাঁদা চাইলে আমার নিকট পাঠাবেন, আমি তাকে উপযুক্ত শায়েস্তা করব। অন্যায়কারী এবং অন্যায়কে সহযোগিতাকারী কুষ্টিয়ায় চাকরি করতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন, ভারতের নাটকের মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বলে যে ট্যাগ দেয়া হয়েছিল, এখন আর সেই সুযোগ নেই। জনগণ সব বুঝে গেছে—প্রকৃতপক্ষে কে সন্ত্রাসী আর ধাপ্পাবাজ, আর কেই-বা দেশপ্রেমিক হয়ে দেশমাতৃকায় জীবন বাজি রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চায়।



