রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় বোরো ধানের চারা বীজতলা রোপণের পর এখন মাঠজুড়ে কৃষকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা ধানের বীজতলায় পানি সেচ, আগাছা দমন, সার প্রয়োগ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে নিবিড় পরিচর্যায় সময় পার করছেন।
উপজেলার কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বোরো মৌসুম আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন চারা সঠিকভাবে বেড়ে উঠছে কি না, সেটিই মূল বিষয়। তাই প্রতিদিন মাঠে গিয়ে পরিচর্যা করতে হচ্ছে।’
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় চার হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা ও চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উপযুক্ত সময়ে চারা রোপণ করা হলেও নিয়মিত ও সঠিক পরিচর্যা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব নয়। তাই কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সচেতন করা হচ্ছে।
তবে এবছর অবিরাম বৃষ্টির কারণে উপজেলার কিছু এলাকায় জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় চারা পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি, শ্রমিক সংকটও কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলার নান্দিগ্রামের কৃষক আশেক আলী বলেন, ‘এ সময় শ্রমিক পাওয়া খুব কঠিন। তাই নিজেরা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যতটা পারি কাজ চালিয়ে নিচ্ছি।’
উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা টিপু সুলতান বলেন, ‘বর্তমানে কৃষকরা জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকা, পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম সার প্রয়োগে ব্যস্ত। আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী জানান, ধানের চারা ভালোভাবে বেড়ে তোলার জন্য জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিয়মিত নিড়ানি দেওয়া এবং সময়মতো ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সার প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি মাজরা পোকা ও ব্লাস্ট রোগ দমনে কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দুর্গাপুরের কৃষকরা বোরো ধানের পরিচর্যায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলন পাওয়া যাবে।



