কাপ্তাই হ্রদে কমেনি পানি, রাঙ্গামাটিতে বোরো চাষে বহুমুখী সঙ্কট

তেলের সঙ্কটে সেচে ধস

জমি সংকুচিত হওয়া, তেলের অভাবে সেচে বিঘ্ন এবং দেরিতে চাষ শুরু হওয়া- এই তিনটি বড় সঙ্কট রাঙ্গামাটির বোরো চাষকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

Location :

Rangamati
হ্রদে পানি না কমায় কমেছে চাষযোগ্য জমি, অন্যদিকে জ্বালানি সঙ্কটের কারণে ফসলি জমিতে সেচ বিঘ্ন
হ্রদে পানি না কমায় কমেছে চাষযোগ্য জমি, অন্যদিকে জ্বালানি সঙ্কটের কারণে ফসলি জমিতে সেচ বিঘ্ন |নয়া দিগন্ত

‘কৃষিই কৃষ্টি, কৃষিই সমৃদ্ধি-মাটিতেই স্বপ্ন, কৃষিতে সম্ভাবনা’। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন চাপে সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে রাঙ্গামাটির বোরো মৌসুমে। কাপ্তাই হ্রদের পানি আশানুরূপ কমে না যাওয়ায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে গেছে। পাশাপাশি তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে শুষ্ক জমিতে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে রাঙ্গামাটি জেলায় কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে হাজার হাজার হেক্টর পলিযুক্ত উর্বর জমি জেগে ওঠে। স্থানীয় কৃষকরা এসব জমিতে সাধারণত কোনো প্রকার সার বা লাঙ্গল ছাড়াই বোরো ধান, তরমুজ ও বিভিন্ন শাকসবজির চাষ করে থাকেন। এতে স্বল্প খরচে ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। কৃষকদের অভিযোগ, এ বছর হ্রদের পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে না কমায় পর্যাপ্ত চাষযোগ্য জমি জেগে ওঠেনি। ফলে বোরো চাষযোগ্য জমি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, লংগদু, নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় হ্রদের বুক চিড়ে জেগে ওঠা জমিতে চাষাবাদ অনেক কম হয়েছে।

এদিকে জমির সঙ্কটের পাশাপাশি নতুন করে যোগ হয়েছে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট। সেচের জন্য প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। বিভিন্ন উপজেলায় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ তেলও মিলছে না। ফলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী এলাকায় বোরো ধানের চাষ শুরু হলেও তা আগের বছরের তুলনায় অনেক সীমিত। কোথাও কোথাও দেরিতে চাষ শুরু হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, আগাম বর্ষা শুরু হলে এই দেরিতে করা চাষ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রতিবছরের মতো এবারো অনেক কৃষক উন্নত উফসী জাতের ধান রোপণ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল ভালো ফলনের। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশায় ভাটা পড়েছে।

কৃষকরা জানান, তারা বিভিন্নভাবে তাদের সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ তারা পাননি।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো: মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিবছর পানিতে ভাসা জমিতে ভালো ফলন হয়ে থাকে। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা এসব কৃষকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি।

সব মিলিয়ে জমি সংকুচিত হওয়া, তেলের অভাবে সেচে বিঘ্ন এবং দেরিতে চাষ শুরু হওয়া- এই তিনটি বড় সঙ্কট রাঙ্গামাটির বোরো চাষকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এবারের বোরো আবাদে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।