নৌকায় জুয়া : পুলিশের ভয়ে পানিতে ঝাঁপ, ২ দিন পর লাশ উদ্ধার

জুয়া খেলার সময় পুলিশ এসেছে ভেবে নদীতে ঝাঁপ দেয়ার পর নিখোঁজ হন মোয়াজ্জেম। দুই দিন পর তার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
নিখোঁজ মোয়াজ্জেমের লাশ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে
নিখোঁজ মোয়াজ্জেমের লাশ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে |প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের তুরাগ নদে নৌকায় জুয়া খেলার সময় পুলিশ এসেছে ভেবে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া মোয়াজ্জেম হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ দুই দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে নগরের কড্ডা এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মোয়াজ্জেম মহানগরের খালিশাবর্তা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তুরাগ নদেে নৌকায় জুয়া খেলার সময় পুলিশ এসেছে ভেবে ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন মোয়াজ্জেম ও তার সঙ্গীরা। সে সময় তার সঙ্গীরা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তিনি নিখোঁজ হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পুলিশের অভিযান থেকে বাঁচতে কিছুদিন যাবৎ গাজীপুরের কাউলতিয়ার কারখানা বাজারের কড্ডাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় তুরাগ নদে নৌকায় বসে জুয়া ও মাদকের আড্ডার আয়োজন করে আসছিল কিছু দুর্বৃত্ত। বুধবার রাতে মোয়াজ্জেমসহ চার থেকে পাঁচজন নদে একটি ট্রলারে বসে জুয়া খেলছিল। এ সময় অপর একটি ট্রলারে কিছু লোক তাদের ট্রলারের কাছে গেলে পুলিশ ভেবে তারা নদে ঝাঁপ দেন। পরে তিনজন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন।

খবর পেয়ে রাতেই স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান চালান। সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একদল ডুবুরি উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে শুক্রবার ভোরে নগরের কড্ডা এলাকায় তার লাশ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠায়।

মোয়াজ্জেমের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, মোয়াজ্জেমসহ চার থেকে পাঁচজন তুরাগ নদে একটি ট্রলারের ওপরে বসেছিলেন। তখন পাঁচ থেকে ছয়জন লোক এসে তাদের ট্রলার থেকে নেমে আসতে বলেন। না নামলে গুলি করার হুমকি দেন। একপর্যায়ে ভয়ে চারজন নদে ঝাঁপ দেয়। তাদের মধ্যে তিনজন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেমের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ওই এলাকায় সে সময় পুলিশের কোনো অভিযান চালানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জুয়া খেলছিলেন ও কয়েকজনকে দেখে পুলিশ ভেবে ভয় পেয়ে তুরাগে ঝাঁপ দেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।