নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে : রফিকুল ইসলাম খান

‘জামায়াতে ইসলামী সকল ইসলামী দল এবং সমমনা-দেশপ্রেমিক দলকে সাথে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জোটবদ্ধ সরকার গঠন করবে। বৃহত্তর ঐক্য গড়ে হায়েনার কবল থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে।’

আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া অফিস

Location :

Bogura
রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান
রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান |নয়া দিগন্ত

নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ কার্যকরের আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, জামায়াত নির্বাচনমুখী দল। আগামীকাল নির্বাচন হলেও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে, তার আগে গণহত্যার বিচার, মৌলিক সংস্কার, ফ্যাসিবাদের দোসরদের গ্রেফতার করে বিচার, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত, জুলাই সনদ আইনি ভিত্তি দিয়ে কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সকল ইসলামী দল এবং সমমনা-দেশপ্রেমিক দলকে সাথে নিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জোটবদ্ধ সরকার গঠন করবে। বৃহত্তর ঐক্য গড়ে হায়েনার কবল থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে।’

শনিবার (৩০ আগস্ট) বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা শাখার ষান্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টাকে তার দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মানুষ বলতে শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা একটি দলের পকেটে ঢুকে গেছে। আমরা চাই মানুষের এই আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণিত হোক। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ যেমন কোন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনে পরাজিত হয়নি, তেমনি এই সরকারকে কোনো একটি দল ক্ষমতায় বসায়নি। ড. ইউনূসের সরকার জনগণের সমর্থনে গঠিত হয়েছে। সুতরাং জনগণের হয়েই কাজ করতে হবে। ব্যর্থ হওয়া চলবে না।’

বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রিয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন, বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক মাওলানা আব্দুর রহিম ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

বক্তব্য রাখেন বগুড়া শহর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব দবিবুর রহমান, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নুর মোহাম্মদ আবু তাহের, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল বাছেদ, অধ্যাপক আব্দুল হাকিম সরকার, ছাত্র শিবিরের পশ্চিম জেলা সভাপতি সাইয়েদ কুতুব ও পূর্ব জেলা সভাপতি জুবায়ের আহমেদ।

সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল বাছেত ও সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘পিআর পদ্ধতি একটি দল ছাড়া সবাই চায়। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ছোট দলেরও প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এখানে ভোট কেনা থাকবে না। পেশী শক্তি কেউ দেখাবে না। মনোনয়ন বাণিজ্য থাকবে না। প্রতিটি ভোটের মূল্যায়ন হবে। এসব কারণে আমরা এটা চাই।’

‘আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, মানবিক, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি থাকবে না। জনগণ জামায়াতকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আমরা রাজা হব না। জনগণের সেবক হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকব। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমানা রক্ষার আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবে জামায়াত।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে নারীরা পড়াশোনা, চাকরিসহ ঘরে-বাইরে সবখানে মর্যাদার আসনে থাকবেন। অমুসলিম ভাই-বোনেরা তাদের পূর্ণ নাগিরক অধিকার ভোগ করবে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা কোনো দিন অমুসলিমদের এক ইঞ্চি জায়গাও জবর দখল করেনি। বরং যারা অমুসলিমদের ব্যবহার করে রাজনীতি করেছে এবং ভবিষ্যতে করতে চায় তারাই অমুসলিম ভাইবোনদের জায়গা-জমি দখল করেছে। লুট করেছে। তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। আগামী নির্বাচনে দেশের অমুসলিম ভোটাররা এর সমুচিত জবাব দিবে।’

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে নিশ্চিন্তে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে কি না সেটা নিয়ে সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায় আছে। সরকার এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি। একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রিয় নেতারা হুংকার দিচ্ছেন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে সুস্থ্যভাবে বাড়ি ফিরতে পারবে না। আবার কেউ কেউ ঘোষণা দিচ্ছেন ব্যালট পেপার ছাপার সময় তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকবেন। প্রয়োজনে নিজেরা ব্যালট পেপার ছাপিয়ে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। এটা নিশ্চয় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বড় বাধা। এমন পরিস্থিতিতে মৌলিক সংস্কার না করেই নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। যেনতেন ভাবে নির্বাচন করে একটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর স্বপ্ন জনগণ কোনো দিনও পূরণ হতে দিবে না।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরকে হত্যা করেছে। এসব জুডিশিয়াল কিলিংয়ের সাথে জড়িত বিচারক, আইনজীবী, সাক্ষীসহ বিচারের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে।’

ওই সম্মেলনে জেলার ১১টি উপজেলার তিন সহস্রাধিক নারী ও পুরুষ সদস্য অংশ নেন।