চলছে মাটি বাণিজ্য

ভূঞাপুরে বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী নারীর জমি দখলের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দখল ও মাটি বাণিজ্যের অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

Location :

Tangail
ভূঞাপুরে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারী ফরিদা খাতুন
ভূঞাপুরে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারী ফরিদা খাতুন |নয়া দিগন্ত

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দখল ও মাটি বাণিজ্যের অভিযোগে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ফরিদা খাতুন উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পলশিয়া গ্রামের মরহুম জিঞ্জির আলী ফকিরের মেয়ে।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- নিকরাইল ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব ও আব্দুল মোন্নাফ।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই বছর ধরে প্রভাবশালী এই তিন নেতা বেআইনিভাবে ফরিদার একমাত্র কৃষিজমি দখলে রেখে খননযন্ত্রের মাধ্যমে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছেন। জমিতে গিয়ে বাধা দিলে ফরিদা ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ফরিদা, তার ভাই ও ভাইয়ের মেয়ে আহত হন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একাধিকবার বিষয়টি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলে উত্থাপন করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।

নিকরাইল ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি ময়মনা বেগম বলেন, ‘বিচারের আশায় ফরিদা বিভিন্ন নেতাকর্মীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। জমির মাটি বিক্রির টাকাও পায়নি, জমিও ফেরত পায়নি।’

ভুক্তভোগী ফরিদা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। বিয়ে হয়নি। ভাঙা ঘরে শতবর্ষী মাকে নিয়ে থাকি। এই জমিটুকুই ছিল বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। এখন সেটাও দখল হয়ে গেছে। জমিতে গেলে মারধর করে। আমি আমার জমি ফেরত চাই, হামলার বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আব্দুস সালামকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাহবুব হাসান জানান, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে অসহায় এক প্রতিবন্ধী নারীর জমি দখল ও মাটি বাণিজ্যের অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।