ফরিদপুরে হত্যা মামলায় শ্রমিক লীগ নেতাসহ ৫ জনের যাবজ্জীবন

মামলায় আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া হত্যা মামলার আলামত লোপাটের অপরাধে আসামিদেরকে আরো সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

হারুন আনসারী, ফরিদপুর

Location :

Faridpur
রাজন হত্যা মামলায় শ্রমিক লীগ নেতাসহ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে
রাজন হত্যা মামলায় শ্রমিক লীগ নেতাসহ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে |নয়া দিগন্ত

ফরিদপুরের মধুখালীতে আলোচিত রাজন হত্যা মামলায় এক শ্রমিক লীগ নেতাসহ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া হত্যা মামলার আলামত লোপাটের অপরাধে আসামিদেরকে আরো সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলন (৩৯), মামুন শেখ (৩৮), আসাদ শেখ (৩৯), ইলিয়াস মৃধা (৩৮) ও আরমান হোসেন (৩৬)। আর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, হাসান শিকদার ও আশরাফুল শিকদার।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা যায়, গত ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিকেলে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মধুখালী উপজেলার গোন্দারদিয়া এলাকার শাহ মোহম্মদ রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহ মো: রাজন। এ ঘটনায় পরের দিন তার পরিবারের পক্ষ থেকে মধুখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

এদিকে, নিখোঁজের চার দিন পর মধুখালীর তারাপুর শ্মশানঘাট সংলগ্ন মধুমতি নদীতে জেলেরা মাছ ধরার সময় রাজনের ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়। নিখোঁজের ছয় দিন পর ২ এপ্রিল কুড়ানিয়ার চর এলাকায় একটি পুকুর পাড়ের মাটি খুঁড়ে রাজনের লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পরের দিন ৩ এপ্রিল রাজনের মা জোসনা বেগম মধুখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত এপিপি (এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর) মো: রকিবুল ইসলাম রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাজনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার লাশ মাটি দিয়ে চাপা দিয়ে রাখা হয়। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনে। এ ঘটনায় রাজনের মা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ের মাধ্যমে বাদিপক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।’