সাহসিকতার স্বীকৃতি : তহমিনা আক্তারকে ‘কন্যা সাহসিকতা’ সম্মাননা

তহমিনার মা-বাবা তার মতামতের বিরুদ্ধে বিয়ের আয়োজন করলে সে তাতে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানায়। পরিবারের চাপ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে গত শনিবার সে জিয়ানগর থানায় আশ্রয় নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দ্রুত উদ্যোগ নেয়।

পিরোজপুর প্রতিনিধি

Location :

Pirojpur
তহমিনা আক্তারকে ‘কন্যা সাহসিকতা’ সম্মাননা
তহমিনা আক্তারকে ‘কন্যা সাহসিকতা’ সম্মাননা |নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের জিয়ানগরে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সাহসিকতার নজির স্থাপন করায় ‘কন্যা সাহসিকতা’ সম্মাননা পেয়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী তহমিনা আক্তার।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসক আবু সাইদ তার কার্যালয়ে তহমিনার হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক অনুদান তুলে দেন। এ সময় তার মা-বাবা উপস্থিত ছিলেন।

তহমিনা আক্তার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামের আলম হাওলাদারের মেয়ে এবং জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

জানা গেছে, তহমিনার মা-বাবা তার মতামতের বিরুদ্ধে বিয়ের আয়োজন করলে সে তাতে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানায়। পরিবারের চাপ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে গত শনিবার সে জিয়ানগর থানায় আশ্রয় নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দ্রুত উদ্যোগ নেয়। তাদের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয় এবং তার মা-বাবার কাছ থেকে এ ধরনের কাজ পুনরায় না করার বিষয়ে মুচলেকা নেয়া হয়।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা নির্মূলে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের অনুরোধ করেন এবং বাল্যবিবাহের বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করেন।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, তহমিনা আক্তারের এই সাহসী উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।