উত্তরায় আগুনে ঈশ্বরগঞ্জের বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত, শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম

একসাথে চলছে দাফনের প্রস্তুতি

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

Location :

Ishwarganj
ছবি : নয়া দিগন্ত

রাজধানীর উত্তরায় আগুনে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এতে শোকে স্তব্ধ তাদের পুরো গ্রামটি। এখন একসাথে চলছে তাদের দাফনের প্রস্তুতি। পাশাপাশি দাফন করা হবে ৩ জনকেই।

রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনই ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বাবা ও ছেলেসহ একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার সদর ইউনিয়নের দড়িপাঁচাশি গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো: হারিছ উদ্দিন (৫২) ও তার ছেলে হিসান উদ্দিন রাহাব (১৭) এবং ভাতিজি রোদেলা (১৪)। রোদেলা হারিছ উদ্দিনের ছোটভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে।

নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারিছ উদ্দিন ও শহীদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে একসাথে রাজধানীর উত্তরায় ফলের ব্যবসা করে আসছিলেন। ব্যবসার সুবাদে হারিছ উদ্দিনের স্ত্রী ও দুই ছেলে এবং শহীদুল ইসলামের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তারা উত্তরার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

শুক্রবার সকালে ওই বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় শহীদুল ইসলাম, তার স্ত্রী শিউলী আক্তার এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে উমর উদ্দিন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সরেজমিনে দেখা যায়, একসাথে তিনজনের দাফনের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি খোঁড়া হচ্ছে তিনটি কবর।

বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। লাশ বাড়িতে এসে না পৌঁছালেও দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা প্রতিবেশী ও স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করছেন।

আজ রাত ১০টায় জানাজা শেষে বাবা-ছেলেসহ ৩ জনকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা।

নিহতের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, হারিছ উদ্দিন খুব ভালো ছেলে ছিলেন। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কল্পনাও করতে পারিনি। বাবা–ছেলেসহ একসাথে ৩ জন মারা যাওয়ায় পরিবারটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

প্রতিবেশী আতাউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুরো গ্রাম যেন মুহূর্তেই শোকস্তব্ধ হয়ে গেছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আবুহানিফা বলেন, একসাথে বাবা–ছেলেসহ তিনজনের এমন মৃত্যু আমাদের পুরো ইউনিয়নকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।