নেত্রকোনায় জ্বালানি তেল মজুত করে সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে জ্বালানি তেল নিয়ে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১০ উপজেলায় লাগাতার অভিযান চালিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন মজুদ করে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করায় জ্বালানি তেলের জন্য জেলার সর্বত্র হাহাকার শুরু হয়েছে। তেল সংগ্রহের আশায় শত শত লোক বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে আশঙ্কাজনকভাবে যান চলাচল কমে গেছে। যে কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির কবলে পড়তে হচ্ছে।
এই অবস্থার উত্তরণ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১০ উপজেলায় মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমান আদালত) পরিচালনা করে স্থানীয় প্রশাসন। এ সময় জ্বালানি তেল মজুত ও চড়া দামে বিক্রির অভিযোগে ৪১ জনকে ৮৫ হাজার আট শ’ টাকা জরিমানা করা হয়।
এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর বাজারে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা আট শ’ লিটার পেট্রোল জব্দ করে স্থানীয় প্রশাসন। এ সময় ঘটনার সাথে জড়িত এসায়েতুর রহমানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া জ্বালালি তেল নিয়ে কারসাজির অভিযোগে মদন উপজেলার মেসার্স সাম্য ফিলিং স্টেশনকে নয় হাজার ছয় শ’ টাকা জরিমানা করা হয়।
কেউ যেন জ্বালানি তেল মজুত করে সঙ্কট সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) খন্দকার মুশফিকুর রহমান। এ বিষয়ে মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে বলে জানা যায়।



