চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
বাগেরহাটের চিতলমারীতে একটি অবৈধ ইটভাটার জন্য সরকারি খালে বাঁধ দেয়া হয়েছে। এতে খালের পানি পচে দু’পাড়ের ১০ গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১২টায় দ্রুত বাঁধ অপসরণের জন্য এলাকাবাসিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
লিখিত আবেদন ও প্রবীণ ব্যাক্তিদের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কলাতলা, বড়বাড়িয়া ও শিবপুর ইউনিয়নের মানুষের চাষাবাদ ও বিশুদ্ধ পানির জন্য ১৯৭৯ সালে মচন্দপুর মধুমতি নদী থেকে নালুয়া বাজার হকক্যানেল পর্যন্ত খাল খননের কাজ নিজ হাতে উদ্বোধন করেন। সেই খালটি খননের পর থেকে এখনো অঞ্চলের মানুষের চাষাবাদের ও ব্যবহার্য পানির কষ্ট লাঘব হয়। দীর্ঘদিন পাড় হওয়ায় খালটির পানি প্রবাহ ও গতি কমে যায়।
খালটির পানি প্রবাহ ও গতি ফেরাতে ২০২৩ সালে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে খালটি পুনঃখনন করা হয়। সেই পুনঃখননকৃত খালটির পরানপুর ইটভাটা সংলগ্ন মুক্তি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় ইটভাটার সুবিধার্থে খালে বাঁধ দিয়ে তৎকালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক শেখ মাহাতাবুজ্জামান ছোট্ট একটি ইউ ড্রেন বসান। এতেই খালের পানি প্রবাহ ও গতি বন্ধ হয়ে যায়। আর বছরের পর বছর এভাবে পানি প্রবাহ ও গতি বন্ধ থাকায় বর্তমানে খালের পানি পচে ১০ গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। খালটির দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে তাদের গৃহস্থ কাজে এ দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। ফলে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন গ্রামবাসী। ব্যহত হচ্ছে কৃষি কাজ।
বড়বাড়িয়া মৈজোড়া গ্রামের নিয়ামত হোসেন, নালুয়া গ্রামের লাবলু শেখ, সাবেক ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির ও বড়বাড়িয়া গ্রামের মনিরুজ্জামানসহ অসংখ্য মানুষ জানান, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শেখ মাহাতাবুজ্জামান তার অবৈধ ইটভাটার জন্য খালটিতে বাঁধ দিয়েছেন। বাঁধের ফলে দীর্ঘ কয়েক বছর পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় খালের পানি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ১০ গ্রামের মানুষ। যুবলীগ নেতার দেয়া এ বাঁধ দ্রুত অপসারণ করার আহ্বান জানান তারা।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চিতলমারী উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শেখ মাহাতাবুজ্জামান পালাতক থাকায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিতলমারী পরিবেশ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজ হাতে ১৯৭৯ সালে এ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন। বছর তিনেক আগে মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য খালটি পুনঃখনন করা হয়। ব্যাক্তি স্বার্থে তৎকালীন প্রভাবশালীরা এ খালে বাঁধ দেন। বাঁধের কারণে খালের পানি পচে দূষিত হয়েছে। এই খালের পানি যাতে মধুমতি নদী থেকে হক ক্যানেল পর্যন্ত যায় সে জন্য আমি প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।’
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘খালে বাঁধ দেয়ার অভিযোগটি আমাদের কাছে এসেছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’



