কানাডায় পাঠানোর নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সেলসেলা বাবু গ্রেফতার

গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় সাইবার সুরক্ষা এবং জাল টাকা ও ডলার থাকায় পেনাল কোড আইনে মামলা রুজু করে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন।

মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

Location :

Nilphamari
গ্রেফতার সোহেল রানা বাবু ওরফে সেলসেলা বাবু
গ্রেফতার সোহেল রানা বাবু ওরফে সেলসেলা বাবু |নয়া দিগন্ত

কানাডায় পাঠানোর নামে প্রায় ৮৫ জনের কাছ থেকে এক কোটি ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া ভিসা প্রতারক মো: সোহেল রানা বাবু ওরফে সেলসেলা বাবুকে (২৫) গ্রেফতার করেছে নীলফামারীর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম ।

এর আগে বুধবার সৈয়দপুর উপজেলার খালিসা ধুলিয়া এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার সোহেল রানা বাবু ওই এলাকার মো: আদর আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানা এলাকার মরহুম ছোয়াব উল্লার ছেলে নিজাম উদ্দিনসহ (৫৬) ৮৫ জন ব্যক্তি এক কোটি ২৭ লাখ টাকা অনলাইন ভিসা প্রতারণার শিকার হয়ে মৌখিকভাবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনার সত্যতা পায় এবং প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সোহেল রানা বাবুকে অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আরো জানান, তাকে আটকের পর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন লোকের ১৯টি জাল পাসপোর্টসহ টাকা ও পাসপোর্ট গ্রহণের হিসাবের খাতা একটি, একটি সিডনি অস্ট্রেলিয়া বিগেস্ট কোম্পানির আইডি কার্ড, জাল কানাডিয়ান এক হাজার ডলারের ৩৫টি নোটের বান্ডিল একটি, জাল কানাডিয়ান ৫০০ ডলারের ৩৭টি নোটের বান্ডিল একটি, জাল কানাডিয়ান ১০০ ডলারের ৩২টি নোটের বান্ডিল একটি, অন্য দেশের মুদ্রার পৃথক পৃথক দুটি বান্ডিল যার মধ্যে ১টি বান্ডিলে ৭০টি নোট অপর একটি বান্ডিলে ৪০টি নোট ছাড়াও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যান্ড টেলিফোন উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক মো: আকতার হোসেন বলেন, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার সহযোগীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সহায়তায় প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কাছে কানাডিয়ান ভিসা দেবার কথা বলে বিকাশ ও নগদসহ ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে এক কোটি ২৭ লাখ টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় সাইবার সুরক্ষা এবং জাল টাকা ও ডলার থাকায় পেনাল কোড আইনে মামলা রুজু করে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন।