পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কোনোভাবেই দ্রব্যমূল্য বাড়ানো যাবে না। সারা বছর যে দাম ছিল, রমজানেও তা বহাল রাখতে হবে। রোজাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি জানান, একজন দোকানি ক্রয়মূল্যের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করতে পারবেন। এর বেশি নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঈদকে সামনে রেখে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভোক্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে একসাথে পুরো মাসের বাজার না করে সচেতনভাবে কেনাকাটা করতে হবে। অতিরিক্ত ক্রয় ও মজুদের কারণে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয় এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়।’
রমজানে মসজিদে মাইক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাহরি ও ইফতারের সময় যেসব মসজিদে সাইরেন রয়েছে, তারা এক থেকে দুই মিনিট সাইরেন বাজাতে পারবেন। তবে সাহরির আগে দীর্ঘ সময় মাইক ব্যবহার করে বয়ান, গজল বা ওয়াজ করা যাবে না।’
অন্য ধর্মাবলম্বীদের কথা বিবেচনা করেও এ বিষয়ে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। ইসলামী ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তারাবি নামাজ আদায়ের বিষয়েও দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
সভায় জানানো হয়, রমজান উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় দু’টি এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ন্যায্যমূল্যের বিক্রয়কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। এসব কেন্দ্রে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ডিম, দুধ, মাংস, মুরগি ও ফলমূল ন্যায্যমূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, মাসুদুর রহমান সরকার, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, দীপক কুমার পাল, অহীদ্র কুমার মণ্ডল, জেসমিন আক্তার, শিল্পী মণ্ডল, মোহাম্মদ সুজাত কাজী, নরেশ চন্দ্র পাল, সেলিম রেজাসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা।



