বৈশ্বয়িক পরিবর্তনের কারণে মানুষ নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং তা মহামারী আকার ধারণ করছে। পাশাপাশি মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিক র্যাসিস্ট্যান্সের কারণে প্রচলিত ৩৬টি অ্যান্টিবায়োটিক তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, সাভারের পিএইচএ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা: দেওয়ান মো: সালাউদ্দিন।
এদিন দুপুরে গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের র্যালি। ডা: দেওয়ান মো: সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ডীনবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অঙ্গ সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও মাঠকর্মীরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে পিএইচএ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা: মাহমুদুল হাসান শিকদার। তিনি বলেন, ‘২০০০ সালের পর থেকে বিশ্বব্যাপী মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগ সহজ হয়েছে। এ কারণে নতুন নতুন রোগের পাদুর্ভাব বেড়েছে এবং তা মহামারী আকার ধারণ করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে পরিবেশগত পরিবর্তন যেমন বনভূমি কমে যাওয়ায় পশুপাখির রোগ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া মানুষের খাদ্যাভ্যাস অর্থাৎ ফাস্টফুড ও জাংকফুড এর প্রতি আসক্তি এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়াচ্ছে। কাজেই মানব স্বাস্থ্য, পশুস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।’
অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান শিকদার বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টরে আলাদাভাবে কাজ হচ্ছে। একারণে এক সেক্টরের তথ্য অন্য সেক্টর জানছে না, যে কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন দূরদর্শী মানুষ ছিলেন। যার কারণে তিনি মানব স্বাস্থ্য, পশুস্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত বিষয় নিয়ে অর্থাৎ ওয়ান হেলথ নিয়ে অনেক আগে থেকেই কাজ শুরু করেছিলেন।’
‘স্বাস্থ্যের জন্য একসাথে। বিজ্ঞাপনের পাশে দাঁড়াও’ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে এই স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ বক্তা গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা: ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রচলিত ৩৬টি অ্যান্টিবায়োটিক তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। কিছু সাধারণ সংক্রমক রোগের বিরুদ্ধে এসব অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করতে পারছে না। নতুন যে ছয়টি অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে এসেছে সেগুলো কোনো আশার বানী শোনাতে পারছে না। কাজেই চিকিৎসকদের যত্রতত্র আ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ডোজ নির্ধারণ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী হতে পারে রোগীকে তা জানাতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেসিস্ট্যান্স নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের লক্ষ্য অনুযায়ী সকলের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে, সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব সচেতনার সাথে পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: মো: আবুল হোসেন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রাণপুরুষ মরহুম ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সকলের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতে যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন তা এগিয়ে নিতে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।’
এছাড়া তিনি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দ্বিতীয় বারের মতো স্বাধীনতা পদক পাওয়ায় অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিগণ উপস্থিত ছিলেন।



