চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহের পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ এলাকা শৈলকুপায় পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
শৈলকুপা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। গতবছর এ আবাদ ছিল ১২ হাজার ৩১ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর ৮০৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ বেড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ, হাট ফাজিলপুর, শীতালে ভাটই ও শৈলকুপা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাজারে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ প্রতি মণ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং দেশীয় পেঁয়াজ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে কেউ কেউ বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির সম্ভাবনার গুজবে দাম কমেছে। আবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় পেঁয়াজ বাজারে বেশি ওঠায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। দাম কম থাকায় ক্রেতারা খুশি মনে পেঁয়াজ কিনছেন, তবে এতে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে।
লাঙ্গল বাঁধ বাজারের আড়তদার হারাধন কুন্ডু জানান, বাজারে নতুন পেঁয়াজের আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। ফলে ক্রেতারা বেশি করে পেঁয়াজ কিনছেন। তবে পেঁয়াজের দাম আরো কমতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।
ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন পেঁয়াজের প্রচুর সরবরাহ থাকায় বাজারে দাম কমেছে। এতে কৃষকদের লোকসানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
হাট ফাজিলপুর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। খুচরা বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। আমরা খুব সামান্য লাভে বিক্রি করছি। বাজার এমন থাকলে কৃষকরা চরম লোকসানে পড়বেন।’
পৌর বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় ইচ্ছামতো কিনতে পারছি। তবে এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।’
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) লাঙ্গল বাঁধ বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা চরধলহরা গ্রামের কৃষক ইসলাম সদ্দার বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় আমরা লোকসানে পড়েছি। বাজার পরিস্থিতি এমন থাকলে অনেক কৃষক তাদের সহায়-সম্বল হারাবেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান খান জানান, চলতি বছর পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হয়েছে। বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনে বাজারদর কিছুটা বাড়তে পারে। না হলে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন।



