রংপুরে আইনজীবী সমিতিতে বিধিবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় এবং ভোটাধিকার না রাখতে মুচলেকা নেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নবীন আইনজীবীরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নগরীর আদালত পাড়ায় আইনজীবী ভবনে অবস্থান নিয়ে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। এ সময় আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিনকে অবরোধ করেন তারা।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া নবীন আইনজীবী আসমিন ফারহা আখি বলেন, ‘নবীন আইনজীবী হিসেবে সমিতিতে ভর্তির ফি আগে ৫০ হাজার টাকা থাকলেও এখন তা বয়সের প্রকারভেদে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও যাদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি, তাদের একটি স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়া হচ্ছে। তাতে বলা হয়েছে, তারা কখনোই ভোটাধিকারের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আইনজীবীরা যেখানে আইনের চর্চা করেন, সেখানে আইনজীবী সমিতি নিজেই যদি ভোটাধিকার না রাখতে মুচলিকা নেন বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আইনজীবী সমিতিতে নতুন আইনজীবী অন্তর্ভুক্ত করতে সমস্ত কালাকানুন বাতিল করা না হলে আগামীকাল থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
আন্দোলনকারী নতুন আইনজীবী আরিফুর রহমান আরিফ বলেন, ‘২৬তম ব্যাচে রংপুরে ১০৮ জন নতুন আইনজীবী বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রংপুর আইনজীবী সমিতিতে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ৪৫ জনকে জেনারেল হিসেবে ভর্তি করানো হয়েছে। বাকি ৬১ জনকে অ্যাসোসিয়েট সদস্য হিসেবে ভর্তির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে বয়সভেদে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে কখনোই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না এ ধরনের মুচলিকা নেয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এমন নিয়ম বাংলাদেশের কোনো আইনজীবী সমিতিতে নেই, পৃথিবীতেও নেই। কিন্তু রংপুর আইনজীবী সমিতি অ্যাসোসিয়েট সদস্যের নামে আইনবহির্ভূত কাজ করছে। অবিলম্বে মুচলেকা নেয়া বন্ধ, কালাকানুন বাতিল এবং ভর্তি ফি কমানো না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া হবে।’
নবীন আইনজীবী বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগামীকাল মঙ্গলবার আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অতিরিক্ত ভর্তি ফি ও মুচলিকা না দিয়ে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের বলেছেন। কোনো কারণে যদি সেটি বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে আমরা আমরণ অনশনে যাব।’
রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন বলেন, ‘মূলত রংপুর আইনজীবী সমিতিতে যেসব আইন আছে সেসব ২০০৩ সালের। সেই অনুযায়ী এবার আমরা ভর্তি করাচ্ছি। নবীন আইনজীবীরা আন্দোলন করছেন, আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাদের বলেছি, অতিরিক্ত ভর্তি ফি বাদ দিয়ে আগামীকাল ভর্তি হতে। এছাড়া মুচলেকা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা যে দাবি করেছেন, সেগুলো আমি শুধু আমাকে নয়, সমিতিকে চাপ দেয়ার কথা জানিয়েছি।’



