১১ দিন ধরে বিকল বিমানের ৭৮৭-৯ বোয়িং ড্রিমলাইনার

জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার মডেলের একটি উড়োজাহাজ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ায় সিলেট-লন্ডন রুটের যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
বাংলাদেশ বিমান
বাংলাদেশ বিমান |নয়া দিগন্ত

সিলেটে বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় লন্ডনগামী যাত্রীরা ভোগান্তি ও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গত ১১ দিন ধরে এই অবস্থা বিরাজ করলেও কবে নাগাদ এই বড় ত্রুটি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে তা কেউ বলতে পারছেন না।

জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার মডেলের একটি উড়োজাহাজ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ায় সিলেট-লন্ডন রুটের যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রতিদিন সিলেট-লন্ডন ফ্লাইটের ২৫-৩০ জন যাত্রীকে ‘অফলোড’ করতে হচ্ছে। এ কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ-ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মারাত্মকভাবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেটস্থ ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার (ডিএম) শরিফুল হাসান যান্ত্রিক ত্রুটির কথা স্বীকার করে নয়া দিগন্তকে জানান, সপ্তাহখানেক ধরে এ সমস্যা চলছে।

তিনি আরো জানান, সিলেট-লন্ডন রুটের এ বিমানটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ২৯৮। বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় যাত্রীদের ৭৮৭-৮ সিরিজের উড়োজাহাজে অ্যাকোমোটেড করা হচ্ছে। কিন্তু, রিশিডিউল করা এ বিমানের ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে -২৭১। যে কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৭ জন যাত্রীকে নিয়ে তাদের সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। তবে, কারো টিকেট ‘নো শো’ হলে ওই সিটের বিপরীতে তাদের মধ্যে কিছু যাত্রীর সিটের সংস্থান করা হচ্ছে।

রিশিডিউলের বিষয়টি আগে থেকে যাত্রীদের জানিয়ে দেয়া হলেও অনেকের লোকাল (স্থানীয়) কন্টাক্ট নম্বর না থাকায় অনেকেই পূর্বনির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী বিমানবন্দরে চলে আসেন বলে জানান তিনি।

ডিএম বলেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘গ্রাউন্ডেড’ আছে। প্রকৌশলীরা বিমানটির যান্ত্রিক ত্রুটি সারাবার চেষ্টা করছেন।’

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দূর-দূরান্তের অনেক যাত্রী সবজি-কাঁচামাল নিয়ে চলে আসেন এয়ারপোর্টে। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটে যেতে না পারায় তাদের এসব মালামালও নষ্ট হচ্ছে। এ নিয়ে বিমানবন্দরে কর্তব্যরত বিমান কর্মকর্তাদের সাথে যাত্রীদের ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনাও ঘটছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, এ চাপ সামলাতে গিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যাত্রীদের বিষয়টি কোনভাবেই বুঝানো যাচ্ছে না। ড্রিমলাইনারটিও কবে সচল হবে-এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ বিমানের তথ্য অনুযায়ী, বিমান ফ্লিটে বর্তমানে দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিম লাইনার রয়েছে। এর মধ্যে একটি দিয়ে লন্ডনের এবং অপর উড়োজাহাজ দিয়ে কানাডাগামী যাত্রীদের পরিবহন করা হতো। কিন্তু, একটি ড্রিমলাইনার বিকল হয়ে যাওয়ায় সবচাইতে বেশী বিপাকে পড়েছেন লন্ডনগামী যাত্রীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একটি সূত্র জানায়, গত ৩ এপ্রিল থেকে উড়োজাহাজটি বিকল রয়েছে। আর সে দিন থেকে যাত্রীদের ভোগান্তির শুরু।

যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে সব কিছুই রুটিন মতো চলে। মার্চে স্কুল বন্ধ থাকায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে দেশে ছুটে এসেছিলেন। এপ্রিলে খুলে যায় সেখানকার স্কুলসমূহ। ঈদ উদযাপনশেষে অনেকেই পরিকল্পনামাফিক গন্তব্যে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। এ অবস্থায় বিমানের শিডিউল বিপর্যয় তাদেরকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।

দেশে বেড়াতে আসা পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন গত শুক্রবার পরিবারের চার সদস্য নিয়ে সিলেট থেকে লন্ডন যান। তার নিজের টিকেট নিয়ে কোন সমস্যা না হলেও বিমানবন্দরে কয়েকজন যাত্রীকে ‘অফলোড’ করার বিষয়টি তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এ নিয়ে বিমান কর্মকর্তাদের যাত্রীদের বচসা হয়।

তিনি বলেন, ‘লন্ডনের যাত্রীদের ফ্লাইট রিশিডিউল হওয়া মানে তার পুরো প্ল্যানে ছেদ পড়া। স্কুলসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদেরকে সমস্যা পোহাতে হয়।’

সূত্রমতে, সিলেট-লন্ডন রুটে বর্তমানে সপ্তাহে ৫টি ফ্লাইট অপারেট হয়। এর মধ্যে ৭৮৭-৯ দিয়ে শুক্রবার ও রোববার যাত্রী পরিবহন করা হয়। আর ৭৮৭-৮ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা হয় বুধ, বৃহস্পতি ও শনিবার। কিন্তু, ৭৮৭-৯ সিরিজের উড়োজাহাজ বিকল থাকায় ৭৮৭-৮ দিয়ে যাত্রী পরিবহন করা করা হচ্ছে। এ কারণে বিমান ২৭টি সিটের সংকটে পড়েছে। পাশাপাশি সিলেট-ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিকল্প রুটও ব্যবহার করতে পারছে না।

‘পিক সিজনে’ ড্রিমলাইনারটি বিকল হয়ে পড়ায় লন্ডন প্রবাসীরাই সবচাইতে বেশী সমস্যায় পড়েছেন।

সিলেট ওভারসিজ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে পাঁচ লাখ সিলেটী অবস্থান করছেন। সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইটটি তাদের প্রথম পছন্দ। যে কারণে এ ফ্লাইটে যাত্রীদের চাপ থাকে বেশী।