পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কলেজছাত্র সিয়াম হত্যা মামলার প্রধান আসামি রায়হানকে (২২) গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তাকে বরিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আ: সালাম নিশ্চিত করেন।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে নিহত কলেজছাত্র সিয়ামের বাবা বাছের তালুকদার জুয়েল মির্জাগঞ্জ থানায় রায়হানকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ ও আরে চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার রায়হান মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর সুবিদখালী গ্রামের আ: সালামের ছেলে।
নিহত সিয়াম (১৮) পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া গ্রামের মো: জুয়েল তালুকদারের ছেলে ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ রমিজ উদ্দীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
এছাড়া ঘাতকদের হামলায় আহত হয়ে সিয়ামের খালাত ভাই আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (১৭) অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খাঁন নূরুল ইসলাম জানান, নিহত সিয়াম ও আহত মাহমুদ সম্পর্কে খালাত ভাই। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া নানা বাড়ি থেকে মির্জাগঞ্জের খালার বাড়িতে বেড়াতে আসেন এবং ওই দিন দুপুরের পরে দুই খালাত ভাই সিয়াম ও মাহমুদ ঘুরতে যান। বেলা ৩টার দিকে উপজেলার সুবিদখালী সরকারি কলেজের পেছনে একটি মাঠে বসে তারা গল্প করছিলেন। এ সময় অপরিচিত তিন-চার যুবক এসে মাদক সেবনের অভিযোগ দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। এ সময় সিয়ামের সাথে বিবাদীদের সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বিবাদিরা সিয়ামকে মারধর করতে থাকলে সাথে থাকা খালাত ভাই মাহমুদ বাধা দেন। এতে আসামিরা তাকেও মারধর করে আহত করেন। তাদের মারধরে সিয়াম অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা সিয়াম ও মাহমুদকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিয়ে পালিয়ে যায়।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মো: আবদুর রহমান শামীম জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সিয়াম ও মাহমুদকে হাসপাতালে নিয়ে এসে জরুরি বিভাগের সামনে রেখে অজ্ঞাত পরিচয়ের চার-পাঁচজন লোক দ্রুত চলে যায়। হাসপাতালে আনার আগেই সিয়ামের মৃত্যু হয়েছে। আহত আবদুল্লাহ আল মাহমুদের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আ: সালাম জানান, সিয়াম নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বাবা তিন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রধান আসামিকে বরিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



