বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সমতল ভূমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১০০টি পরিবারের মধ্যে ছাগল ও ছাগল পালনের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে দু’টি ছাগল ও পাঁচটি ফ্লোর ম্যাট দেয়া হয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও জীবনমান উন্নয়ন শীর্ষক সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান। সভাপতিত্ব করেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলে হুদা বাবুল বলেন, ‘সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছাগল পালন একটি সহজ ও লাভজনক উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা করলে এটি পরিবারের আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের উন্নয়নে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব সহায়তার মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো আয় বাড়ানোর সুযোগ পাবে এবং ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রিপা রানী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের ভেটেরিনারি সার্জন মো: আসাদুজ্জামানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির লক্ষ্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি করা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পশুপালনের মাধ্যমে টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে সহায়তা করা। এ জন্য ছাগল বিতরণের পাশাপাশি উপকারভোগীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাগল ও ফ্লোর ম্যাট তুলে দেয়া হয়। সহায়তা পেয়ে অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশা করেন, এই উদ্যোগ তাদের পরিবারের আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।



