অতি সংস্কারের নামে অপ্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করছি মতৈক্য কমিশনের মিটিংগুলোতে হৈচৈ হচ্ছে। সেখানে বিভ্রান্তি হচ্ছে, বয়কট হচ্ছে। মতৈক্য কমিশন তাদের অ্যাজেন্ডার বাইরে অনেকগুলো অ্যাজেন্ডা নিয়েছে। এতোগুলা অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ ওই কমিশনের নয়। প্রতিনিয়ত মতৈক্য কমিশন মতানৈক্য কমিশনে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।’
শনিবার (২১ জুন) বিকেলে ফরিদপুরের অম্বিকা হলে ফরিদপুর বিভাগীয় বিএনপির উদ্যোগে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১০ মাস পার হয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে সংস্কারের যেই আকাঙ্ক্ষা রয়েছে সেটি কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সংস্কার অত্যন্ত ধীর গতিতে আলোচনা হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানে দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ তার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। এ সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।’
দলের নতুন সদস্যভুক্তির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘যে যাই বলুক না কেন আওয়ামী লীগ আর ফিরে আসবে না। কিন্তু সেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকেরা যেন দলে অনুপ্রবেশের সুযোগ না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’
সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের হাজারো তরুণ রয়েছে যারা কোনো দলমত করে না। এদের যদি বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলে প্রান্তিক পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির অবস্থান আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে।’
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক ও সেলিমুজ্জামান সেলিম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা, শরিয়তপুর জেলা বিএনপির সরদার এ কে এম নাসিরুদ্দিন কালু, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু প্রমুখ। এ সময় বৃহত্তর ফরিদপুরের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



